ক্রিং ক্রিং...।-হ্যালো?
-দোস্ত কই তুই?
-বাসায়।তুই কই?
-আমার জায়গাতো ভাই একটাই।
-কই ওই মাঠে বইসা রইছস?
-হুম।আইবি?
-হ!তুই থাক আমি রাহাত আর সাকিবরে
নিয়া আইতাছি।
-আইচ্ছা আয়।তর হেল্প লাগবো।তর লগেআমার আলাপ আছে।
-একটু বস্ আমি আইতাছি ১৫ মিনিট এর
মাঝেই।
-হুম...।
আশিক রিয়াদের বেষ্ট ফ্রেন্ড।আশিক তার সব কথা রিয়াদের সাথে শেয়ার করে।রিয়াদও তেমনি।আশিকের কাছে সব বলে।আজ আশিক রিয়াদকে ফোন করে দেখা করতে বলে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যে জায়গাটি হলো একটি মাঠ আর যেখানে তারা প্রায় রোজই দেখা করে।সাকিব আর রাহাত হলো রিয়াদের বেষ্ট ফ্রেন্ড।তাদের নিয়েই রিয়াদ মাঠে যাবে আশিকের সাথে দেখা করতে।রিয়াদ রাহাতকে ফোন করে...
-হ্যালো রিয়াদ বল!
-ওই রাহাত বের হমু।তুই আসবি?
-কই যাবি?
-মাঠে।আবি?
-হ।তুই আমার বাসায় আয়।আমি রেড হই।
পরে এক লগে যামু।
-সাকিবরে ফোন দিয়া আইতে কইস।
-সাকিব আমার বাসায় আইছে।ফোন দেই অওরে।কথা বল।
>রিয়াদ বল!
-রাহাত রেডি হইলে বের হ!ওরে নিয়া
সোজা মাঠে যাবি।আমি আর
আসতেছিনা রাহাতের বাসায়।মাঠে
আশিক একলা আছে।অর ওইখানে যাই।
তরা আয় তাড়াতাড়ি।
-আইচ্ছা।আসতেছি।তুই যা!!
-হুম তরা দেরি করিসনা আবার!
রিয়াদ সাকিবের সাথে কথা শেষে মাঠের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।১০ মিনিটের মধ্যে সে মাঠে পৌঁছে যায়।গিয়ে দেখে আশিক বসে আছে।দুর থেকে তাকে দেখে আশিক হাত নেড়ে ইশারা দিচ্ছে নিজের কাছে যেতে।রিয়াদ আশিকের কাছে গিয়ে বসে।আশিক সিগারেট টানছিলো বসে বসে।
-দে ভাই আমি দুইটা টান দেই।
-নে।
-তুই আজক সিগারেট টানতাছস!কারণ
কি?ব্যাপারটা কিছুই বুঝলামনাতো!
-ভাই জ্বালায় আছিরে।
-তর আবার কি হইছে বেটা?তরে কখনো
এমনতো দেখিনাই।
-সব বলমু তগরে।দাড়া আর একটা ধরাই।
-ধরা।সাকিব আর রাহাত আসতে থাক।
-হুম...
সাকিব আর রাহাতের অপেক্ষা করতে করতে রিয়াদ আর আশিক সিগারেট টেনে টেনে সময় কাটাচ্ছে।রিয়াদ আশিকের কথা ভাবছে।আশিকতো এমন ছেলে নয়!সে খুব হাসিখুশি একটা ছেলে।তার মধ্যে বিমর্ষতা কখনো দেখা যায়নি।তবে কি এমন হলো যে আশিক এমন করে আছে!রিয়াদ কিছুই ভেবে পাচ্ছে না।এদিকে সাকিব আর রাহাত এখনও আসছেনা।রিয়াদ ফোন দিতে মোবাইল যেই বের করলো অমনি দুর থেকে তাদের দেখা গেল। কিছুখনের মধ্যে সাকিব আর রাহাত তাদের কাছে এসে বসে পরলো। রাহাত বলে উঠলো-
-ভালোইতো একা একা দুইজন টানতাছ।
আমাদের দিবানা?
-নে তুইও নে।
-কি হইছে তর আশিক?
-আগে টান পরে বলতেছি।সাকিবরেও টানতে দে!
-হুম দিতাছি...
কিছুখন সিগারেট টানে সবাই।একটার পর একটা ধরাতে থাকে।সাকিব এবারে আশিককে কি হয়েছে বলতে বলে।আশিক সাকিবের দিকে
তাকায়...
-ভাই আমি প্রেমে পরছি!
<কি কইলি?
রাহাত,রিয়াদ আর সাকিব এক সংগে বলে উঠলো।
-হুম সত্যি!
-হারামজাদা তুমি এই কথা এমন মুখ লটকায়া কইতাছ!(রিয়াদ)
-ফাইজলামি করস শালা?(সাকিব)
-কার প্রেমে পরলি তুই?(রাহাত)
-বলতাছি।তরা চুপ থাক।তরা হিয়ারে চিনস?
-কোন হিয়া?(রাহাত)
-আমাদের সাথে যে ইংলিশ পড়তো ওই হিয়া।
-চিনছি।ফর্সা,লম্বা মাইয়াটা না? (সাকিব)
-হ।ওর প্রেমে পছি।ফেসবুকে অনেক ভালো ফ্রেন্ডশিপ।সারাদিন কথা হয়। কিন্তু আমি সাহস পাইতাছিনা কেমনে কি কমু।তাই তদের ডাকা।
-শোন আমি একটা রাস্তা বইলা দেই। ওরে বলবি "হিয়া আমার একটা মেয়ে কে খুব ভাল লাগে।ওকে প্রোপজ করবো। কিন্তু কিভাবে করি বলতো!ভয় হয় যদি ব্লক দেয় বা কথা না বলে!"।হিয়া তখন শিওর কইবো তরে বইলে দিতে।কারণ
একজনরে তর ভালো লাগতেই পারে। (রিয়াদ)
-ঠিক!(সাকিব)
-তুই আজকেই ক!(রাহাত)
-আইচ্ছা কমু।।কালকে আবার এই টাইমেই এইখানে আসিস।কি হয় জানামুনে তদের।আজকে তাইলে যাইগা চল। হিয়া আশিকের সমবয়সী মেয়ে।আশিক তার প্রেমে পরেছে।বন্ধুদের ডেকে তাদের কথায় সাহস পেয়ে আজ সে হিয়াকে সব বলবে!
দুরু দুরু বুকে বাড়ি ফেরে আশিক।আজ সে হিয়াকে বলবে সব।নিজের রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে সে মোবাইলটা হাতে নিয়ে হিয়াকে রিয়াদের বলা কৌশল প্রয়োগ করে সব বলে।হিয়া ফেসবুকে নেই এখন।আশিক অপক্ষায় আছে।কিছুখন পর হিয়া রিপ্লে দেয়!
-বলে দে তুই কারণ তার এইটা জানার
অধিকার আছে যাকে তুই লাইক করিস!
-যদি ব্লক দেয়?
-আজব!ব্লক দেয়ার কি আছে!যা যা বলে
আয়।
-আসলে মেয়েটা অন্য কেও নয়রে!
-মানে কি?
-মানে হলো মেয়েটা তুই।
এর পর পুরোরাত হিয়ার সংগে আশিকের কথা হলো।অনেক কথা হল। হিয়া নিজের অনেক কিছু জানালো আশিককে। অন্যদিকে রিয়াদ,সাকিব,রাহাত কনফারেন্স কল করে কথা বলছে আশিকের ব্যাপারে।তারা তিনজনই খুব উৎসাহিত। পরদিন সাকিব,রাহাত,রিয়াদ এক সংগে মাঠে গিয়ে দেখে আশিক সিগারেট টানছে।
-কিরে আশিক!কি হইলো বল!(রাহাত)
-জলদি ক!(রিয়াদ)
-তরা আবিদ কে চিনস?
-আমি চিনি!কেন?(সাকিব)।
-কেমন ছেলে আবিদ?(আশিক)
-এক সময় আমার ভালো বন্ধু ছিল।শালা আস্ত একটা প্রতারক।মেয়েদের পিছনে ঘুরে।ছাত্র একদম জঘন্য।পরে সবচেয়ে বাজে কলেজটায়।কিন্তু তুই তর কথা বল। আবিদরে দিয়া তর কি!
-আমিও চিনি এই হারামিরে!(রাহাত)
-আমিও!(রিয়াদ)
-আমিও চিনি!তদের একটা শকিং নিউজ দিতাছি!শক খাবি শিওর! সাকিব,রিয়াদ,রাহাত একে অপরের দিকে তাকায়।কিছুখন তাকিয়ে থেকে তারা আশিকের কাছে খবরটা শুনতে চায়!
-কি নিউজ দিবি!(সাকিব)
-আবিদ হিয়ার বয়ফ্রেন্ড!
-কি কইলি এইডা?(রাহাত)
-What?(সাকিব)
-হ্যা?কেমনে কি!(রিয়াদ) সাকিব,রিয়াদ,রাহাত তিন জনই চমকে ওঠে।
-সত্যি কইলাম ভাই।
-হিয়ার কি কোন বুদ্ধি নাই নাকি?
এইরকম একটা ভবিষ্যত ছারা পোলার লগে কেমনে কি!(সাকিব)
-কালকে এইগুলা নিয়া অনেক কথা হইছে।আবিদরে নক দিয়া জানতে চাইলাম ওর কাছেও সব।স্বীকার করছে সব ও নিজেও।পরে হিয়ারে আমার ব্যাপারে বাজে কিছু হয়তো কইছে তাই হিয়া আমারে ব্লক দিছে।আর সকালে দেখলাম শালার আবিদও ব্লক দিছে আমারে।ওদের সম্পর্ক হইছে ১ সপ্তাহ আগেই।(আশিক)
-হায়রে পুড়া কপাইল্যারে!বাঙ্গালি দেখি শালা সব কাজেই লেট।প্রেম করবি কর কিন্তু তাতেও লেট! বাঙ্গালী ট্রেইন যেমন টাইম মত আসেনা তেমন তুইও টাইম মত কইতে পারলিনা।শত হোক তুইওতো বাঙ্গালীই।নিয়ম ভাঙবি কেমনে! (রিয়াদ)
-খুচা দেইসনারে আর শালা!ওই সিগারেট ধরা।আয় ৪টা মিলা টানি। (আশিক) সিগারেট টানতে থাকে ৪ জন। ফেসবুকিয় অধিকাংশ ভালোবাসার পরিনতিই হয় অতঃপর ব্লক।তবে এই ক্ষেত্রে একটি ক্রাশ খাওয়ার পরিনতি হয়ে গেল অতঃপর দুটি ব্লক।








