"ওয়াও, অনেক সুন্দর লিখেছেন তো, ইটস অসাম.."একটা পেজে গল্প পড়ে এই কমেন্ট করল লিজা। এত্ত রোমান্টিক ভাবে কেউ লিখতে পারে? মনে মনে বলছে লিজা। লেখকটাকে খুঁজে বের করতে হবে। একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতেই তাকে পেয়ে গেল সে। তার টাইমলাইন, এবাউট সব চেক করল সে। "ওমা ছেলেটাতো আমার শহরেই থাকে।" তাই, আর দেরী না করে সে "রক্ত ভিক্ষারী" নামের আই ডি টাতে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। "দিনটা চলে গেল, ছেলেটা এখনও আমার রিকুয়েস্ট একছেপ্ট করল না, এত্ত ভাব নেয় কেন?" মনে মনে বলে একটা মেসেজ পাঠায় তাকে, "এই মিস্টার, এতো ভাব কেন আপনার?" সিন, কিন্তু কোন রিপ্লাই দিলনা? "এই যে হ্যালো, কি ভাবেন নিজেকে? রিকুয়েস্ট দিসি একছেপ্ট করেন না কেন? " এবার ও সিন কিন্তু এবারও কোন রিপ্লায় এলো না তার কাছে.. ছেলেটা আজব তো, মেসেজ দেখে রিপ্লাই দেয় না... আমাকে আবার ফেইক ভাবছেনা তো? ভেবে আবারও মেসেজ করল তাকে.. "দেখুন আমি কিন্তু ফেইক নই হু, আপনার লেখাগুলো ভালো লেগেছে, তাই রিকুয়েস্ট দিয়েছি, একছেপ্ট না করলে ডিলিট করে দেবেন কিন্তু এতো ভাব নেন কেন?" এবারও কোন রিপ্লায় আসলো না, তবে একটা নোটিফিকেশন আসলো "রক্তভিখারী একছেপ্টেড ইউর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট "
লিজার কেমন জানি সন্দেহ হয়..., ছেলেটা বোধহয় আমাকে চিনে আর ইচ্ছে করেই আমাকে এভোইড করছে।.
২
রাজ এমনি সাধারনত কারো রিকুয়েস্ট একছেপ্ট করে না। কিন্তু হঠাৎ একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেখে তার মনে কৌতুহল জাগে,
সে কি করবে বুঝছেনা.. নামটার দিকে সে তাকিয়ে আছে। "রক্ত দাত্রী " নিচে লেখা কনফার্ম অর ডিলিট। কৌতুহলের বশবর্তী হয়েই একছেপ্ট করে।
মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ করে " কি মশাই, কেমন আছেন? " কথা শুনে তো মনে হচ্ছে সে আমার পরিচিত। রিপ্লাই দিল "যেমনটা আপনি"
-আমি কেমন আছি আপনি কি করে জানেন?
- যেমন করে আপনি জানেন, আমি রক্তভিখারী।
- হা হা হা,
কথার পিঠে কথা বাড়তে থাকে তাদের। এক দিন মেয়েটি বলে তার প্রেমে পড়েই আই ডি নেম তার আই ডি নেমের সাথে মিল করে রেখেছে সে। তুমি রক্তভিখারী হলে আমি তোমার প্রেম ভিক্ষারী।
কিন্তু এড়িয়ে যায় রাজ। মেয়েটার জেদ চেপে বসে। আমি মেয়ে হয়ে আগে ওকে প্রোপোজ কররলাম। আর বলদটার ভাব দেখো..!! প্রতিদিন ন্যাকা কান্না করে একসময় রাজের মন জিতে নিল সে। শুরু হলো তাদের লুতুপুতু প্রেম। একদিন, রাজের সাথে কথা না বলে থাকতে পারতো না সে।
তাদের প্রেম বেশ গভীর হলেও কেউ কাউকে দেখেনি আজ অবধি।
৩
পার্কের কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচের বেঞ্চটাতে চুপটি করে বসে আছে লিজা। আজ সে তার রক্তভিখারীর সাথে দেখা করবে। চাপা এক উত্তেজনায় তির তির করে ওর শরীরটা কাঁপছে। "উফফ, অসহ্য! কি যে করে পাগলটা? প্রথমদিনেই এতো দেরী। রেগে রেগে এসব বলে আর বারবার ঘড়ির দিকে তাকায় সে। সন্ধা প্রায় হয়ে আসলো, হঠাৎ কৃষ্ণচূড়া গাছটা থেকে ধপ্প করে লাফ দিয়ে একটা ছেলে লিজার সামনে পড়ে। ভয়ে আঁতকে ওঠে সে।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
- রা..জ... তুমি!!
- হ্যাঁ আমার রক্তদাত্রী। শুনে গলা শুকিয়ে যায় লিজার..
- তু..মি র..রক্তভিখারী? হা হা করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে, রাজ।
- তুমি কি মনে করেছ? আমি আত্মহত্যা করেছি বলেই তোমায় ছেড়ে চলে গেছি?
-তার মানে তুমি মরনি..?
- কে বলছে আমি জীবিত...? হঠাৎ, চুলগুলো কেমন.. বড় হয়ে মুখটা ডেকে যায়, রক্ত বর্ণ হয়ে যায় তার চোখগুলো....! মুখটা খুলতেই বড় বড় দুইটা দাঁত দেখে মূর্ছা যায় লিজা।
.
৪
লিজার জ্ঞান ফিরেছে..!! জ্ঞান ফিরেছে...! বলে চিৎকার দিল তার বান্ধবী রূপা। সবাই দৌড়ে লিজাকে দেখতে যায়...!! একটু সুস্থ হলে লিজার কাছে সবাই ঘটনা জানতে চায়... লিজা খুলে বলে,
- একটা ছেলে আমাকে অন্নেক ভালোবাসতো.. কিন্তু ছেলেটার সাথে আমি কিছুদিন প্রেমের অভিনয় করেছিলাম...! তারপর, তাকে একদিন জানিয়ে দেই, যে এগুলো মিথ্যে ছিল..! আমি এক ফেসবুক রাইটারকে ভালোবাসি...! সে আমাকে অনেক বুঝিয়েছিল..! কিন্তু আমি তাকে রিজেক্ট করেছিলাম..! সে আমাকে আত্মহত্যা করার হুমকি দেয়...!
আমি তাকে বললাম।।
যা মরলে দূরে গিয়ে মরিস..! তোর মুখ যাতে আমার আর দেখতে না হয়। ভেবেছিলাম, এগুলো তো সবাই বলে.., কিন্তু কিছুদিন পর খবর পেলাম.. সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে...! কিন্তু সে যে এভাবে আমার জীবনে ফিরে আসবে, আমি ভাবিনি। তারপর বাকী ঘটনাও খুলে বলল।
কয়েকবছর পর, রাস্তায় প্রায় একটা মেয়েকে দেখি, অনেকটা পাগলি টাইপের, কার সঙ্গে যেন সবসময় কথা বলে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলে - " আর কত রক্ত খাবি তুই? আমার সব রক্ত এককবারে শুষে নিয়ে মেরে ফেল আমাকে..! রক্ত চোষা, রক্তভিখারী, মেরে ফেল আমাকে....!!"






0 মন্তব্য:
Post a Comment