সকাল থেকে একটু একটু বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে কলেজ ও লেট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি
থামলে কলেজ রওনা দেই যদি ও ৮:১৫ থেকে কয়েকটা ক্লাস মিস হয়েছে কিন্ত ১২:১৫
তে বাংলা ক্লাস। বাংলা স্যারের ক্লাসটা আমার খুবই প্রিয় তাই শুধু একটা
ক্লাস করার জন্য কলেজ রওনা দিলাম।
খুব দ্রুত হাঁটছি। ৩০ সেকেন্ড এর জন্য একটা গাড়ি মিস হতো। গাড়িতে ওঠার পর অদ্ভুত ভাবে একটা ছেলের সাথে ফোন নাম্বার আদানপ্রদান হলো।
ছেলেটির চেহারা রূপকথা গল্পের সেই রাজপুত্রের মতো অসাধারণ সুন্দর মায়াবী। বেশি কিছু উপমা দিয়ে সময় নষ্ট করলাম না। কারণ ছেলেটি অসম্ভব রকমের হ্যানসাম যার উপমা আমার জানা নাই। তবে আমি ৯৯% সিয়র যে কোন মেয়ে এক পলক দেখেই প্রেমে পড়বে।
কলেজে গেলাম মনোযোগ দিয়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
তখন আমার ফোন ছিলনা তাই ছেলেটিকে আব্বুর নাম্বারটাই দিয়েছি। রাতে ফোন হাতে নিয়ে দেখি কয়েকটা মিস কল ছেলেটির নাম্বার থেকে। যদিও কল দিলে পরে মিস কল শো করে।
ও হ্যা ছেলেটির নাম "শাওন"
পর দিন সকালে সুযগ পেয়ে আমি ফোন করি। ফোনটা কেটে দিয়ে কল করলো।
আমি রিসিভ করলাম
দুজন দুজনের সম্পর্কে ফোনে কথা বলে জেনে নিয়েছি।
শাওন এম.বি.এ কমপ্লিট করে একটা কোম্পানীতে জব করে।
ওর বাসায় বাবা, মা আর একটা ছোট বোন আছে।
শাওন খুব ভদ্র ছেলে। কয়েক মাস হলো সম্পর্ক কোন দিন কখনো দুষ্টামি করে ও খারাপ কথা বলেনি। আমাদের সম্পর্কটা এক সময় ভালোবাসায় রূপ নেয়।
আমাদের মাত্র ২দিন দেখা হয়েছে। প্রথম দিন তো অদ্ভুত ভাবে শুধু ফোন নাম্বার আদানপ্রদান।
শাওন অফিসের ফাকে সারা দিনে অনেক বার কথা বলতো। মেসেজ করতো। আমার অনেক কেয়ার করতো।
আমি ফোন রিসিভ না করলে টেনসন করতো। মেসেজ রিপলে না দিলে ফোনের পরে ফোন করে যেত। একদম পাগলের মত করতো।
একদিন শাওনকে ফোনে পাইনা।
চার দিন পর শাওনকে ফোনে পেলাম।
শাওন এমন কিছু কথা বললো আমি শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। শাওনকে নাকি বাসায় থেকে জোর করে ওর কাজিনের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে পড়ায় রাখছে। আমার তখন আর কিছু করার ছিল না শুধু চোখের জল ছাড়া।
শাওন বিয়ের পর ও আমার সাথে আগের মত কথা বলতো আর আমি ও বলতাম। শাওন কখনো আমাকে মিথ্যা বলতো না। ও পারত বিয়ের কথা লুকাতে কিন্ত তা করেনি।
অনেক দিন পর যখন বউকে বাসায় নিয়ে যায় তখন কথা বলা একটু কমে যায়।
শাওন মাঝে মাঝে কাঁন্না করতো ও আমাকে খুব ভালোবাসে কিন্ত পরিবারের জন্য আমাকে বিয়ে করতে পারলো না।
আমি সান্তনা দিতাম বলতাম আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ও আর কিছু বলতো না।
আমার সাথে কথা বলা নিয়ে ওর বউয়ের সাথে ঝগড়া হয় তবু কথা বলা বাদ দিতনা। আর ও ফোন দিলে আমি রিসিভ না করে থাকতে পারতাম না। হ্যা মানছি আমার ও দোষ ওর ফোন রিসিভ করা। কিন্ত মন মানতো না।
শুধু আমি না আমার ফ্রেন্ডস লিস্টে এমন অনেক ফ্রেন্ডস পেয়েছি, যারা এক্স গাল ফ্রেন্ডের বিয়ের পর ও তার সাথে কথা বলে এবং বয় ফ্রেন্ডের বিয়ের পর ও এক্স গাল ফ্রেন্ডেরর সাথে কথা বলে।
যাই হোক,
শাওনের প্রমোশন হয়ে আমাদের এখান থেকে চলে যায়।
আমার ফোন নেই আর সামনে পরীক্ষা আব্বু আর ফোন হাতে দিত না।
একদিন আব্বু নামাজে বসলে ফোন হাতে নিয়ে দেখি শাওন অনেক বার ফোন করেছে। শাওন অনেক ফোন করতো কিন্ত আমাকে পেত না। তাই কলেজ গিয়ে বান্ধবীর ফোন দিয়ে কথা বলতাম। যে বার প্রথম অনেক দিন পর বান্ধবীর ফোন দিয়ে কথা বলি, শাওন খুশিতে কেঁদে ফেলছিলো !! সে দিনই বুঝেছিলাম শাওন সত্যি পরিবারের জন্য আমাকে বিয়ে করতে পারেনি। শাওন আমাকেই ভালোবাসে।
তারপর ওকে সব বলি, সামনে আমার পরীক্ষা জন্য ফোন দিচ্ছে না। আপনি আমার জন্য চিন্তা করবেন না, আমি ভালো আছি।
শাওনকে আমি আপনি করেই বলতাম।
পরীক্ষা পর আবার কথা শুরু হয়।
কিন্ত কিছু একটা ভেবে আমি ওর সাথে ইচ্ছা করে কথা বলা বাদ দেই।
পরে আবার ঠিক মত কথা বলি।
একসময় আব্বু আমাকে ফোন কিনে দেন। আমাকে ফোন কিনে দিয়েছে তার জন্য আমি যতটা না খুশী হয়েছি তার দ্বীগুণ খুশী শাওন হয় আমার ফোনের কথা শুনে।
বিশেষ দিন গুলোতে উইস করতে একদম ভুলতো না।
আমার খুব ভালো লাগতো। ওর বউ হতে না পারলাম কিন্ত ওর ভালোবাসা তো পেয়েছি। তবে আমি সব সময় ওকে বুঝাতাম বউকে যেন অবহেলা না করে।
ওরা দু ভাই বোন। শাওনের ছোট একটা বোন ছিল বর্ষা। বর্ষার সাথে ও আমার খুব কথা হত। ও আমাকে প্রথম থেকেই ভাবী বলতো। শাওনের বিয়ের পর ও ভাবী বলে ডাকতো, আমি নিষেধ করলেও শুনতো না।
শাওন মাঝে মাঝে বলতো রুপা আমি তোমাকে বিয়ে করবো। আমি কখনো রাজি হইনি। আমি আর একটা মেয়ের সংসার ভাঙ্গতে চাইনা।
যদি ও শাওনের সাথে কথা বলতাম তবু বুজাতাম বউকে যেন ভালোবাসে।
একদিন শাওন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, রুপা একটা খুশীর সংবাদ আছে!
_আমি বাবা হব!!!
বিয়ের কয়েক বছর পর শাওনের একটা মেয়ে হয়। আমার দেয়া মিম নামটাই রাখে।
শাওন মেয়ে হওয়ায় অনেক খুশী হয়। ও বলে আল্লাহ যখন খুশী থাকেন তখন মেয়ে সন্তান দান করেন। মেয়েরা বাবা মা কে খুব ভালোবাসে। মেয়ে হলো বেহেস্ত। আমি ও অনেক খুশী হই ওর সন্তান হয়েছে শুনে।
একদিন শাওন ওর বউকে চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিতে নিয়ে যায়। আর মেয়েকে বাসায় রেখে যায়।
শাওন ওর বউকে পরীক্ষার রুমে দিয়ে আমার সাথে কথা বলে। ও সব শেয়ার করতো আমার সাথে। আমি ও কখনো শাওনকে মিথ্যা বলতাম না।
কয়েক মাস আগে আমার আর শাওনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়!!!
আমার পরিবার প্রথমে রাজি না থাকলে ও পরে আমার রিকুয়েস্টে আর মিমের মুখ চেয়ে রাজি হয়।
আমি শাওনকে এক বার হারিয়ে ফেলছিলাম। আমি যে আর ওকে হারাতে পারবো না। আমি ওর মেয়ের মা হতে চাই। মিমকে যে আমার মত আর কেউ ভালোবাসতে পারবে না।
শাওন যখন প্রথম ওর মেয়েকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসে তখন মিমকে আমার মেয়ে ভেবেই বুকে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেলি। আমি যে মিমের মা হতে চলেছি। এ কাঁন্না কষ্টের , না সুখের আমার জানা ছিলনা। কিন্তু মনে একটা অসীম প্রশান্তি অনুভব করলাম।
আমি এখন মিমের মা। শাওন ৯টায় অফিস চলে যায়। আমি আমার মেয়ে আর সংসার সামলাই। মিম আদো আদো করে মা বলে। মিম আমাদের সব। শাওন জানতো আমি মিমের সত্যিকারের মা হতে পারবো।
তাই...........
সে দিন চাকুরীর পরীক্ষা শেষ করে শাওন আর ওর বউ বাসায় ফিরছিলো।
হঠাৎ গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়! গাড়ির অনেকেই খুব আহত হয়। ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। সবার সহযোগীতায় ওরা ও হসপিটাল পৌঁছায়। শাওন সুস্থ হলে ও মিমের মা সহ আরো এক বৃদ্ধ মারা যান।
আমার ইচ্ছা থাকা সত্বে ও সে দিন মিমের মা কে দেখতে যেতে পারিনি।
আমরা তিন জন এখন অনেক অনেক সুখে আছি।
খুব দ্রুত হাঁটছি। ৩০ সেকেন্ড এর জন্য একটা গাড়ি মিস হতো। গাড়িতে ওঠার পর অদ্ভুত ভাবে একটা ছেলের সাথে ফোন নাম্বার আদানপ্রদান হলো।
ছেলেটির চেহারা রূপকথা গল্পের সেই রাজপুত্রের মতো অসাধারণ সুন্দর মায়াবী। বেশি কিছু উপমা দিয়ে সময় নষ্ট করলাম না। কারণ ছেলেটি অসম্ভব রকমের হ্যানসাম যার উপমা আমার জানা নাই। তবে আমি ৯৯% সিয়র যে কোন মেয়ে এক পলক দেখেই প্রেমে পড়বে।
কলেজে গেলাম মনোযোগ দিয়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
তখন আমার ফোন ছিলনা তাই ছেলেটিকে আব্বুর নাম্বারটাই দিয়েছি। রাতে ফোন হাতে নিয়ে দেখি কয়েকটা মিস কল ছেলেটির নাম্বার থেকে। যদিও কল দিলে পরে মিস কল শো করে।
ও হ্যা ছেলেটির নাম "শাওন"
পর দিন সকালে সুযগ পেয়ে আমি ফোন করি। ফোনটা কেটে দিয়ে কল করলো।
আমি রিসিভ করলাম
- আসসালাম আলাইকুম (আমি)
- ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বরকাতু।
- শুভ সকাল। ( শাওন )
- শুভ সকাল। কেমন আছেন?
- ভালো। আপনি কেমন আছেন?
- ভালো। ৯:৩০ বাজে এখন ও ঘুমাচ্ছেন....? আমি মনে হয় ডির্স্টাব করলাম.....?
আজ অফিসে একটু পরে যাব তাই আর কী.. - না না ডির্স্টাব হবে কেন.....
- আপনি ঘুম থেকে কখন উঠেছেন?
- আমি ৫:১০ এ ঘুম থেকে উঠছি।
- ওহ তাই, অনেক সকালে ওঠেন আপনি?
- হ্যা। না উঠলে আম্মু বকে।
- ওহ, আপনি নাস্তা করছেন?
- হ্যা। আর আপনি আমাকে তুমি করে বলবেন কেমন.....
আমি তো আপনার ছোট। - ওকে। তোমাকে কাল কয়েক বার কল দেয়ছিলাম, রিসিভ করলে না কেন?
- ফোনতো আব্বুর কাছে ছিলো তাই।
- ওহ, ওকে।
দুজন দুজনের সম্পর্কে ফোনে কথা বলে জেনে নিয়েছি।
শাওন এম.বি.এ কমপ্লিট করে একটা কোম্পানীতে জব করে।
ওর বাসায় বাবা, মা আর একটা ছোট বোন আছে।
শাওন খুব ভদ্র ছেলে। কয়েক মাস হলো সম্পর্ক কোন দিন কখনো দুষ্টামি করে ও খারাপ কথা বলেনি। আমাদের সম্পর্কটা এক সময় ভালোবাসায় রূপ নেয়।
আমাদের মাত্র ২দিন দেখা হয়েছে। প্রথম দিন তো অদ্ভুত ভাবে শুধু ফোন নাম্বার আদানপ্রদান।
শাওন অফিসের ফাকে সারা দিনে অনেক বার কথা বলতো। মেসেজ করতো। আমার অনেক কেয়ার করতো।
আমি ফোন রিসিভ না করলে টেনসন করতো। মেসেজ রিপলে না দিলে ফোনের পরে ফোন করে যেত। একদম পাগলের মত করতো।
একদিন শাওনকে ফোনে পাইনা।
চার দিন পর শাওনকে ফোনে পেলাম।
শাওন এমন কিছু কথা বললো আমি শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। শাওনকে নাকি বাসায় থেকে জোর করে ওর কাজিনের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে পড়ায় রাখছে। আমার তখন আর কিছু করার ছিল না শুধু চোখের জল ছাড়া।
শাওন বিয়ের পর ও আমার সাথে আগের মত কথা বলতো আর আমি ও বলতাম। শাওন কখনো আমাকে মিথ্যা বলতো না। ও পারত বিয়ের কথা লুকাতে কিন্ত তা করেনি।
অনেক দিন পর যখন বউকে বাসায় নিয়ে যায় তখন কথা বলা একটু কমে যায়।
শাওন মাঝে মাঝে কাঁন্না করতো ও আমাকে খুব ভালোবাসে কিন্ত পরিবারের জন্য আমাকে বিয়ে করতে পারলো না।
আমি সান্তনা দিতাম বলতাম আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ও আর কিছু বলতো না।
আমার সাথে কথা বলা নিয়ে ওর বউয়ের সাথে ঝগড়া হয় তবু কথা বলা বাদ দিতনা। আর ও ফোন দিলে আমি রিসিভ না করে থাকতে পারতাম না। হ্যা মানছি আমার ও দোষ ওর ফোন রিসিভ করা। কিন্ত মন মানতো না।
শুধু আমি না আমার ফ্রেন্ডস লিস্টে এমন অনেক ফ্রেন্ডস পেয়েছি, যারা এক্স গাল ফ্রেন্ডের বিয়ের পর ও তার সাথে কথা বলে এবং বয় ফ্রেন্ডের বিয়ের পর ও এক্স গাল ফ্রেন্ডেরর সাথে কথা বলে।
যাই হোক,
শাওনের প্রমোশন হয়ে আমাদের এখান থেকে চলে যায়।
আমার ফোন নেই আর সামনে পরীক্ষা আব্বু আর ফোন হাতে দিত না।
একদিন আব্বু নামাজে বসলে ফোন হাতে নিয়ে দেখি শাওন অনেক বার ফোন করেছে। শাওন অনেক ফোন করতো কিন্ত আমাকে পেত না। তাই কলেজ গিয়ে বান্ধবীর ফোন দিয়ে কথা বলতাম। যে বার প্রথম অনেক দিন পর বান্ধবীর ফোন দিয়ে কথা বলি, শাওন খুশিতে কেঁদে ফেলছিলো !! সে দিনই বুঝেছিলাম শাওন সত্যি পরিবারের জন্য আমাকে বিয়ে করতে পারেনি। শাওন আমাকেই ভালোবাসে।
তারপর ওকে সব বলি, সামনে আমার পরীক্ষা জন্য ফোন দিচ্ছে না। আপনি আমার জন্য চিন্তা করবেন না, আমি ভালো আছি।
শাওনকে আমি আপনি করেই বলতাম।
পরীক্ষা পর আবার কথা শুরু হয়।
কিন্ত কিছু একটা ভেবে আমি ওর সাথে ইচ্ছা করে কথা বলা বাদ দেই।
পরে আবার ঠিক মত কথা বলি।
একসময় আব্বু আমাকে ফোন কিনে দেন। আমাকে ফোন কিনে দিয়েছে তার জন্য আমি যতটা না খুশী হয়েছি তার দ্বীগুণ খুশী শাওন হয় আমার ফোনের কথা শুনে।
বিশেষ দিন গুলোতে উইস করতে একদম ভুলতো না।
আমার খুব ভালো লাগতো। ওর বউ হতে না পারলাম কিন্ত ওর ভালোবাসা তো পেয়েছি। তবে আমি সব সময় ওকে বুঝাতাম বউকে যেন অবহেলা না করে।
ওরা দু ভাই বোন। শাওনের ছোট একটা বোন ছিল বর্ষা। বর্ষার সাথে ও আমার খুব কথা হত। ও আমাকে প্রথম থেকেই ভাবী বলতো। শাওনের বিয়ের পর ও ভাবী বলে ডাকতো, আমি নিষেধ করলেও শুনতো না।
শাওন মাঝে মাঝে বলতো রুপা আমি তোমাকে বিয়ে করবো। আমি কখনো রাজি হইনি। আমি আর একটা মেয়ের সংসার ভাঙ্গতে চাইনা।
যদি ও শাওনের সাথে কথা বলতাম তবু বুজাতাম বউকে যেন ভালোবাসে।
একদিন শাওন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, রুপা একটা খুশীর সংবাদ আছে!
_আমি বাবা হব!!!
বিয়ের কয়েক বছর পর শাওনের একটা মেয়ে হয়। আমার দেয়া মিম নামটাই রাখে।
শাওন মেয়ে হওয়ায় অনেক খুশী হয়। ও বলে আল্লাহ যখন খুশী থাকেন তখন মেয়ে সন্তান দান করেন। মেয়েরা বাবা মা কে খুব ভালোবাসে। মেয়ে হলো বেহেস্ত। আমি ও অনেক খুশী হই ওর সন্তান হয়েছে শুনে।
একদিন শাওন ওর বউকে চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিতে নিয়ে যায়। আর মেয়েকে বাসায় রেখে যায়।
শাওন ওর বউকে পরীক্ষার রুমে দিয়ে আমার সাথে কথা বলে। ও সব শেয়ার করতো আমার সাথে। আমি ও কখনো শাওনকে মিথ্যা বলতাম না।
কয়েক মাস আগে আমার আর শাওনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়!!!
আমার পরিবার প্রথমে রাজি না থাকলে ও পরে আমার রিকুয়েস্টে আর মিমের মুখ চেয়ে রাজি হয়।
আমি শাওনকে এক বার হারিয়ে ফেলছিলাম। আমি যে আর ওকে হারাতে পারবো না। আমি ওর মেয়ের মা হতে চাই। মিমকে যে আমার মত আর কেউ ভালোবাসতে পারবে না।
শাওন যখন প্রথম ওর মেয়েকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসে তখন মিমকে আমার মেয়ে ভেবেই বুকে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেলি। আমি যে মিমের মা হতে চলেছি। এ কাঁন্না কষ্টের , না সুখের আমার জানা ছিলনা। কিন্তু মনে একটা অসীম প্রশান্তি অনুভব করলাম।
আমি এখন মিমের মা। শাওন ৯টায় অফিস চলে যায়। আমি আমার মেয়ে আর সংসার সামলাই। মিম আদো আদো করে মা বলে। মিম আমাদের সব। শাওন জানতো আমি মিমের সত্যিকারের মা হতে পারবো।
তাই...........
সে দিন চাকুরীর পরীক্ষা শেষ করে শাওন আর ওর বউ বাসায় ফিরছিলো।
হঠাৎ গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়! গাড়ির অনেকেই খুব আহত হয়। ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। সবার সহযোগীতায় ওরা ও হসপিটাল পৌঁছায়। শাওন সুস্থ হলে ও মিমের মা সহ আরো এক বৃদ্ধ মারা যান।
আমার ইচ্ছা থাকা সত্বে ও সে দিন মিমের মা কে দেখতে যেতে পারিনি।
আমরা তিন জন এখন অনেক অনেক সুখে আছি।







0 মন্তব্য:
Post a Comment