আমি অনু। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটা সরকারি কলেজে অনার্স করছি। আমার
বেশ কয়েকজন ফ্রেন্ড আছে, তাদের মধ্যে সবাই মেয়ে। তবে নীতুল আর প্রিতম নামে
দুইজন ছেলেও আছে। তারা শুধুই আমার ফ্রেন্ড। অন্যকিছু না।
ইদানিং একটা ছেলেকে দেখছি যে আমাকে সবসময় ফলো করে। আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার কোনো আগ্রহ নেই। ছেলেটা অবশ্য ভালো গান গায়। ওর নাম নিহান।
আস্তে আস্তে নিহানের গানের প্রতি আমার একটা ভালো লাগা কাজ করে। তাই আমিও সবার মত মুগ্ধ হয়ে ওর গান শুনি। এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। ছেলেটির সাথে আমার কথা হয়, গান শুনা হয়। কিন্তু শুধুই বন্ধু হিসেবে।
সকাল ৭টা। হঠাৎ আমার ফোনে নিহানের নাম্বার ভেসে উঠলো। ও সাধারণত এতো সকালে আমাকে কল দেয় না। কিন্তু আজকে কেন দিলো বুঝতে পারছি না।
কল রিসিভ করলাম। নিহান তাড়াহুড়োর স্বরে বলে উঠলো, - অনু তুমি কোথায়?
- এতো সকালে মানুষ কোথায় থাকে?!
- আচ্ছা এখন একটু ক্যাম্পাসে আসতে পারবা?
- এখন ক্যাম্পাসে কেন?!!!
- আসোনা প্লিজ। খুব দরকার।
- আচ্ছা আসছি।
বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে গেলাম। দেখি নিহান ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাছে যেতেই সে আমার কাছে ফুল দিয়ে বলে উঠলো, - অনু আমি তোমাকে ভালোবাসি!
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। এ ছেলে বলেকি?!!! সাথে সাথে রিকশা করে বাসায় চলে গেলাম। ২দিন কলেজ যাইনি। এদিকে নিহানের ফোনের জ্বালায় শান্তি পাচ্ছি না।
পরেরদিন কলেজে যাওয়ার পর নিহান আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, - অনু আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
কি ভয়ংকর কথা!!! আমি একটু রাগান্বিত হয়ে বললাম, - তুমি মরবে কি বাঁচবে সেটা তোমার ব্যাপার। আমি তোমার সাথে রিলেশন করতে যাব কেন?!! আসলে তোমার সাথে কথা বালাটাই ভুল হয়ছিলো।
ইদানিং 'নিহান' নামক প্যারাটার জন্য আমি ঠিকমতো কলেজে যেতে পারি না। আগের মতো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয় না। খুব খারাপ লাগে।
সারাদিন রুমে বসে থেকে একদম বোরিং হয়ে গেছি। তাই আম্মুকে বললাম, - আম্মু আমি একটু খালার বাসায় যাই? আম্মু বললো, "তোর বাবাকে বলে দেখ। সে যদি 'হ্যা' বলে তাহলে আমি 'না' করার কে?!"
আব্বুকে আমি খুব ভয় পাই। আর আব্বুও আমাকে খুব কেয়ার করে। যা মাত্রাতিরিক্ত। তবুও ভয়ে ভয়ে আব্বুকে ফোন দিলাম, - আব্বু আমি কি একটু খালার বাসায় যাব?
আব্বু স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলো, - সেখানে কেন?
আমি বললাম, - তেমন কোনো কারণ নেই। এমনিতেই যাব যদি আপনি বলেন।
আব্বু একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো, - আচ্ছা মা ঠিক আছে যাও। তবে আগামীকাল চলে এসো কিন্তু।
- আচ্ছা।
খালার বাড়িতে একটাদিন খুব ভালোই কাটলো। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেই রাহার ফোন (আমার বান্ধবী)! রাহা বললো, - অনু একটা ঘটনা ঘটছে!!!
আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, - কি হইছে?
- নিহান তোর জন্য হাতটাত কেটে একদম খারাপ অবস্থা করে ফেলছে।
- বলিসকি?!!!
- হুম।
আমি ফোন কেটে অনলাইনে গেলাম। ডাটা কানেকশন চালু করতেই দেখি মেসেন্জারে নিহানের ইনবক্স থেকে বেশ কয়েকটা ফটো। নিহান হাত কেটে খুব যত্ন করে ফটো তুলেছে। সেখানে তার হাত কাটার দৃশ্য অত্যান্ত ভয়ংকর।
আমি প্রথমে সামান্য বিব্রত হলাম। পরে ভাবলাম এটা তো এখন একটা কমন ব্যাপার। সমস্যা নাই।
নিহানকে রিপ্লাই দিলাম, - তুই মর গিয়ে।
নিহান কিছুই বললো না। খানিক সময় পর আমিই বললাম, "দেখ নিহান তোর জন্য আমার কোনো ফিলিংস কাজ করে না। তোকে জাস্ট একটু ভালো লাগতো ভালো গান করতি তাই! এখন সেই ঘোরটাও কেটে গেছে! সো প্লিজ তুই আর আমাকে বিরক্ত করিস না।"
২দিন পর ক্যাম্পাসে গেলাম। নিহান আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর হাতে বিষের বোতল। ও আমাকে কিছুটা বিব্রত করে বলতে লাগলো, "দেখ অনু তোকে না পেলে আমি বিষ খেয়ে সুসাইড করবো আর সেজন্য দায়ী থাকবি তুই! তুই নিজেও বাঁচতি পারবি না।"
এমতবস্থায় আমি কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। খুব ভয় পেয়ে গেছি। চোখে পানি চলে আসছে।
বাসায় এসে ভাবছি, এখন কি করবো?! ওর প্রতি তো আমার কোনো ফিলিংস কাজ করে না। বরং ঘৃণা লাগে। কিন্তু নিজের বিপরীতে গিয়েও কি আমি ওর সাথে সম্পর্ক করতে পারবো?!!!
নাহ্ সেটা সম্ভব না। তারচাইতে মরে যাওয়া ভালো। এমন জীবন রেখে কি হবে? যে জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নেই।
"সবাই একতরফা ভালোবাসা মেনে নিতে পারে না। কিছু মানুষ এমনও আছে যারা নিজে ভালোবাসা না পেলে ভালোবাসার মানুষটিকেও বাঁচতে দেয় না। এদের মষ্তিষ্ক কি দিয়ে তৈরী আমার জানা নেই তবে বাংলাদেশে এমন হাজারো 'বদরুল' টাইপ নিহান আছে যারা অসংখ্য মেয়ের মৃত্যুর কারণ।"
ইদানিং একটা ছেলেকে দেখছি যে আমাকে সবসময় ফলো করে। আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার কোনো আগ্রহ নেই। ছেলেটা অবশ্য ভালো গান গায়। ওর নাম নিহান।
আস্তে আস্তে নিহানের গানের প্রতি আমার একটা ভালো লাগা কাজ করে। তাই আমিও সবার মত মুগ্ধ হয়ে ওর গান শুনি। এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। ছেলেটির সাথে আমার কথা হয়, গান শুনা হয়। কিন্তু শুধুই বন্ধু হিসেবে।
সকাল ৭টা। হঠাৎ আমার ফোনে নিহানের নাম্বার ভেসে উঠলো। ও সাধারণত এতো সকালে আমাকে কল দেয় না। কিন্তু আজকে কেন দিলো বুঝতে পারছি না।
কল রিসিভ করলাম। নিহান তাড়াহুড়োর স্বরে বলে উঠলো, - অনু তুমি কোথায়?
- এতো সকালে মানুষ কোথায় থাকে?!
- আচ্ছা এখন একটু ক্যাম্পাসে আসতে পারবা?
- এখন ক্যাম্পাসে কেন?!!!
- আসোনা প্লিজ। খুব দরকার।
- আচ্ছা আসছি।
বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে গেলাম। দেখি নিহান ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাছে যেতেই সে আমার কাছে ফুল দিয়ে বলে উঠলো, - অনু আমি তোমাকে ভালোবাসি!
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। এ ছেলে বলেকি?!!! সাথে সাথে রিকশা করে বাসায় চলে গেলাম। ২দিন কলেজ যাইনি। এদিকে নিহানের ফোনের জ্বালায় শান্তি পাচ্ছি না।
পরেরদিন কলেজে যাওয়ার পর নিহান আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, - অনু আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
কি ভয়ংকর কথা!!! আমি একটু রাগান্বিত হয়ে বললাম, - তুমি মরবে কি বাঁচবে সেটা তোমার ব্যাপার। আমি তোমার সাথে রিলেশন করতে যাব কেন?!! আসলে তোমার সাথে কথা বালাটাই ভুল হয়ছিলো।
ইদানিং 'নিহান' নামক প্যারাটার জন্য আমি ঠিকমতো কলেজে যেতে পারি না। আগের মতো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয় না। খুব খারাপ লাগে।
সারাদিন রুমে বসে থেকে একদম বোরিং হয়ে গেছি। তাই আম্মুকে বললাম, - আম্মু আমি একটু খালার বাসায় যাই? আম্মু বললো, "তোর বাবাকে বলে দেখ। সে যদি 'হ্যা' বলে তাহলে আমি 'না' করার কে?!"
আব্বুকে আমি খুব ভয় পাই। আর আব্বুও আমাকে খুব কেয়ার করে। যা মাত্রাতিরিক্ত। তবুও ভয়ে ভয়ে আব্বুকে ফোন দিলাম, - আব্বু আমি কি একটু খালার বাসায় যাব?
আব্বু স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলো, - সেখানে কেন?
আমি বললাম, - তেমন কোনো কারণ নেই। এমনিতেই যাব যদি আপনি বলেন।
আব্বু একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো, - আচ্ছা মা ঠিক আছে যাও। তবে আগামীকাল চলে এসো কিন্তু।
- আচ্ছা।
খালার বাড়িতে একটাদিন খুব ভালোই কাটলো। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেই রাহার ফোন (আমার বান্ধবী)! রাহা বললো, - অনু একটা ঘটনা ঘটছে!!!
আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, - কি হইছে?
- নিহান তোর জন্য হাতটাত কেটে একদম খারাপ অবস্থা করে ফেলছে।
- বলিসকি?!!!
- হুম।
আমি ফোন কেটে অনলাইনে গেলাম। ডাটা কানেকশন চালু করতেই দেখি মেসেন্জারে নিহানের ইনবক্স থেকে বেশ কয়েকটা ফটো। নিহান হাত কেটে খুব যত্ন করে ফটো তুলেছে। সেখানে তার হাত কাটার দৃশ্য অত্যান্ত ভয়ংকর।
আমি প্রথমে সামান্য বিব্রত হলাম। পরে ভাবলাম এটা তো এখন একটা কমন ব্যাপার। সমস্যা নাই।
নিহানকে রিপ্লাই দিলাম, - তুই মর গিয়ে।
নিহান কিছুই বললো না। খানিক সময় পর আমিই বললাম, "দেখ নিহান তোর জন্য আমার কোনো ফিলিংস কাজ করে না। তোকে জাস্ট একটু ভালো লাগতো ভালো গান করতি তাই! এখন সেই ঘোরটাও কেটে গেছে! সো প্লিজ তুই আর আমাকে বিরক্ত করিস না।"
২দিন পর ক্যাম্পাসে গেলাম। নিহান আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর হাতে বিষের বোতল। ও আমাকে কিছুটা বিব্রত করে বলতে লাগলো, "দেখ অনু তোকে না পেলে আমি বিষ খেয়ে সুসাইড করবো আর সেজন্য দায়ী থাকবি তুই! তুই নিজেও বাঁচতি পারবি না।"
এমতবস্থায় আমি কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। খুব ভয় পেয়ে গেছি। চোখে পানি চলে আসছে।
বাসায় এসে ভাবছি, এখন কি করবো?! ওর প্রতি তো আমার কোনো ফিলিংস কাজ করে না। বরং ঘৃণা লাগে। কিন্তু নিজের বিপরীতে গিয়েও কি আমি ওর সাথে সম্পর্ক করতে পারবো?!!!
নাহ্ সেটা সম্ভব না। তারচাইতে মরে যাওয়া ভালো। এমন জীবন রেখে কি হবে? যে জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নেই।
"সবাই একতরফা ভালোবাসা মেনে নিতে পারে না। কিছু মানুষ এমনও আছে যারা নিজে ভালোবাসা না পেলে ভালোবাসার মানুষটিকেও বাঁচতে দেয় না। এদের মষ্তিষ্ক কি দিয়ে তৈরী আমার জানা নেই তবে বাংলাদেশে এমন হাজারো 'বদরুল' টাইপ নিহান আছে যারা অসংখ্য মেয়ের মৃত্যুর কারণ।"







0 মন্তব্য:
Post a Comment