আচ্ছা আপনার আইডি নেইম টা এমন অদ্ভুত কেনো' ??
'কেমন অদ্ভুত'?
'এই মনে করেন, আপনার নামের তিন টা অংশের সাথেই আমি চরম ভাবে পরিচিত। নাম গুলো চোখে পড়তেই কেমন যেনো কেঁপে কেঁপে ওঠে আমার ভিতর টা'
'মানে?? কি বুঝাতে চাচ্ছেন আপনি'?
'ব্যাপার টা অনেক মজার, কাকতালীয় ও বটে, শুনে হাসবেন না তো'??
'ভূমিকা- সূচনা না করে তারাতারি বলে ফেলুন, আমার ঘুম পাচ্ছে ঘুমাবো'
..মেয়েটির আইডি নেইম "জেরিন তাসনিম তৃপ্তি" মেয়েটি কারো সাথে তেমন একটা চ্যাট করে না। অপরিচিত কেউ নক করলেও রিপ্লাই দেয় না। কিন্তু এই মুহুর্তে তার ফ্রেন্ড লিস্টের নতুন এই ছেলেটির মেসেজ দেখে রিতিমত মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে মেয়েটার।.. 'আচ্ছা আচ্ছা বলছি, প্লিজ বিরক্ত হবেন না'
'আমার বিরক্ত হওয়া নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, বললে বলুন না বললে ঘুমাবো বাই'
'ওকে বলছি প্লিজ শুনুন, আমি ক্লাস এইটে থাকতে প্রথম যে মেয়েটির উপর ক্রাশ খাই তার নাম ছিলো "জেরিন"
'হুম তো'??
'তারপর কলেজে উঠে যে মেয়েটির উপর ক্রাশ খাই তার নাম ছিলো "তাসনিম"
'আজিব! কি হইসে তাই'??
-এখন ভার্সিটি তে যে মেয়েটার উপর প্রতিনিয়ত ক্রাশ খাচ্ছি তার নাম "তৃপ্তি" আর আপনার আইডি নাম টাও "জেরিন তাসনিম তৃপ্তি" কি অবাক বিষয় তাইনা??
মেয়েটি এইবার হিহি করে হেসে ফেলে। অনেকটা মজা পেয়ে যায় সে। এটা কি করে সম্ভব !!
তিনটা চরিত্রের সাথেই তার নাম টা মিলে গেলো কিভাবে?? ছেলেটা নিশ্চই মিথ্যে বলে তাকে পটানোর চেষ্টা করছে। যাই হোক সত্য হোক আর মিথ্যে হোক মন টা তো ভালো হয়ে গেলো !! যতই পটানোর চেষ্টা করুক পাত্তা না দিলেই হলো।
ছেলেটা কে আর কিছু না বলেই অফ
লাইন হয়ে যায় মেয়েটি। তারপর থেকে মোটামুটি চ্যাট হতে থাকে ছেলেটির সাথে। ছেলেটার প্রতিটি কথায় অবাক হয় মেয়েটি। কখনো বা মজা পেয়ে হিহি করে খিলিখিলিয়ে হাসে। খুব অল্প দিনেই তাদের মাঝে অনেক ভালো ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায়। দুজনের সব কিছু শেয়ারিং কেয়ারিং হয় প্রতিনিয়ত। ছেলেটে অনেক টাই সরল, নিজের গোপন কথা গুলো অকপটে বলে ফেলে। ছেলেটির এই সরলতাই বেশী মুগ্ধ করে মেয়েটিকে। অপরদিকে মেয়েটি অল্পতেই মুগ্ধ হয়, মেয়েটির এমন হুটহাট মুগ্ধ হওয়াটা কে উপভোগ করে ছেলেটি।
মেয়েটিককে মুগ্ধ করানোর নানান উপায় খুজতে থাকে সে। দুজনেরই দুজনের প্রতি অন্যরকম ভালো লাগা ছুঁয়ে যায় প্রতিটি মুহুর্তে।
ভালো লাগা থেকে ফ্রেন্ডশিপ টা রুপ নেয় ভালোবাসায় । একটা সময় আসে দেখা করার পালা। দেখা করার সময়-প্লেস সব ঠিক করা হয়ে যায়।
...টিএসসি মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। ছেলেটির
এখানেই আসার কথা। ত্রিশ মিনিট পার হয়ে গেলো এখনো আসার নাম নেই ছেলেটার। মেয়েটির প্রোফাইলে ছবি থাকায় ওকে আগেই দেখেছে ছেলেটি, কিন্তু ছেলেটার কোনো ছবি দেখতে পারেনি মেয়েটি, ফোন নাম্বার ও নেই। মেয়েটি এবার
বিরক্ত হচ্ছে চরম ভাবে। ভাবছে আর দশ মিনিট দেখেই চলে যাবে সে। দশ মিনিট ও পার হয়ে গেলো। তবে কি ছেলেটা প্রতারণা করলো??
মেয়েটি ফেইসবুকে লগ ইন করে মেসেজ চেক করতেই দেখে ছেলেটির আইডি টা নেই। হয়তো ব্লক করে রেখেছে, নয়তো আইডি ডিএক্টিভ করে ফেলেছে !!
মেয়েটার চোখ ভিজে আসছে। চারিদিক কেমন যেনো ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। হাটতে গিয়ে পা কেঁপে কেঁপে উঠছে বার বার।
চোখ মুছে হাটা শুরু করতেই হুট করে সজল সামনে পড়ে গেলো,,সজল মেয়েটির ভার্সিটি ফ্রেন্ড...
'কি রে তৃপ্তি কি করিস এখানে একা একা'??
'আরে কিছু না এমনিতেই, চল ক্লাসে যাই'
'তোর কি আজ কারো সাথে দেখা করার কথা'??
'ইয়ে মানে হুম, তুই কি করে জানলি'?? কিছুটা অপ্রস্তুত হয় তৃপ্তি। সজল ওদিকে ঘামছে আর ঢোক গিলছে ..
'যদি বলি সেই ছেলেটিই আমি তুই কি আমাকে মাইর দিবি'??
সজলের কথা শুনে থ হয়ে যায় তৃপ্তি!
সজলের কথা শুনে থ হয়ে যায় তৃপ্তি!
'মানে!!! কি বলতে চাচ্ছিস তুই'??? 'ক্লাস এইট থেকে এখন পর্যন্ত তুই ই আমার ক্রাশ !
এতগুলো দিন এক সাথে থেকেও মুখ ফুটে কখনো সামনা সামনি বলার সাহস হয়নি' তাই অন্য আইডি দিয়ে ... সজল চুপচাপ অপরাধী ভঙিমায় মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। তৃপ্তি কি বলবে বুঝতে পারছে না। শাড়ীর আঁচলে চোখ মুছছে বার বার। আর অন্যদিকে রাগি রাগি ভাব এনে কটমট করে তাকাচ্ছে সজলের দিকে। আর ভাবছে একটু পরেই ধুম ধাম কিল বসিয়ে দিবে সজলের পিঠে। গাঁধা টা এত ভীতু ক্যান ??
এতগুলো দিন এক সাথে থেকেও মুখ ফুটে কখনো সামনা সামনি বলার সাহস হয়নি' তাই অন্য আইডি দিয়ে ... সজল চুপচাপ অপরাধী ভঙিমায় মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। তৃপ্তি কি বলবে বুঝতে পারছে না। শাড়ীর আঁচলে চোখ মুছছে বার বার। আর অন্যদিকে রাগি রাগি ভাব এনে কটমট করে তাকাচ্ছে সজলের দিকে। আর ভাবছে একটু পরেই ধুম ধাম কিল বসিয়ে দিবে সজলের পিঠে। গাঁধা টা এত ভীতু ক্যান ??







0 মন্তব্য:
Post a Comment