- এই যে মিঃ! আপনাকে না বলছিলামআমার দিকে তাকাবেন না?-- কোথায় তাকালাম? কখন তাকালাম?
- দেব এক কষে। সুন্দরী মেয়েদের দেখলেই চেপে বসেন, আর বড় চোখে তাকিয়ে থাকাই তো আপনাদের কাজ!
-- আচ্ছা! আপনিও তো দেখছি স্মার্ট ছেলেদের দেখলে আড় চোখে তাকিয়ে থাকেন?
- আমি কখন কার দিকে তাকালাম?
-- তাহলে আমার দিকে না তাকিয়েই বুঝে গেছেন আপনার দিকে আমি তাকিয়ে আছি?
- হাহা আপনার দিকে আমি তাকাবো? ইমপসিবল!
-- এখনো তো তাকিয়েই আছেন!
- ধুর!
-- হিহি.. স্মার্টদের দেখলে সব মেয়েই ভাব নেয়। [ভাব নিয়ে একটু নড়ে চড়ে বসলাম]
- দেখতে একটা গাইয়া ভুত সে আবার বলে ইসমারট
-- জ্বি যথেষ্ট স্মার্ট
..মেয়েটি রেগে গিয়ে বাসের জানালা ঘেসিয়ে বসল। রাগলে মেয়েদের এমনিতেই ভাল লাগে। আর সে যদি সুন্দর্য্যের অধিকারী হয় তাহলে তো বলা বাহুল্য!
লং জার্নি। চট্রগ্রাম মামা বাড়িতে যাব। রাত ১০টা বাজে। তীব্র বাতাস কাটিয়ে হারমানা গতীতে ছুটছে বাসটি। বিকেলে বাসে ওঠেই মেয়েটির সাথে পরিচয় হই। মেয়েটির গন্তব্য শূন্য। জিজ্ঞেস করেই বুঝতে পারি। কারন সব এলোমেলো স্হানের কথা বলে চলছিল। হয়ত বাসা থেকে পালিয়েছে। তবে গোপন রেখেছে সবকিছু।
..মেয়েটি জানালা দিয়ে রাতের জোত্স্না বিলাস দেখে যাচ্ছে। কিছু জোত্স্না এসে মেয়েটির রুপের প্রশংসা বাড়িয়ে দিয়েছে। হঠাত্ করেই মেয়েটির চোখে পানি খেয়াল করলাম। জিজ্ঞেস করতেই এড়িয়ে গেল এবং আমাকে অবাক করে দিয়ে পার্স থেকে সিগারেট বের করল। রঙিন দুই ঠোটের মাঝখানে রেখে সিগারেট ধরালো। সিগারেট ফুকছে আর কাশি দিচ্ছে। বুঝতে পারলাম প্রফেসনাল সিগারেট খোর না।
-সিগারেট খাবেন?
-- জ্বি না আমি সিগারেট খাই না.
-হাহা পিচ্চি বাবু নাকি আপনি? এই যুগেও ছেলেরা সিগারেট টানে না? এনি ওয়ে চকলেট খাবেন? হাহা
- হু, চকলেট খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম "তা কত দিন যাবত নিকোটিনের স্বাদ নেন?"
-- আজ থেকেই...
- অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম.. আজ থেকে কেন?
-- সবাইকে সব কথা বলা ঠিক না..
- ঠিকাছে জোড় করব না। গোপন করার হজম শক্তি থাকলে করেন..
-- একদম নাই..
- তাহলে বলে ফেলেন
-- আসলে আমি মেডিকেল স্টুডেন্ট। লক্ষ্য ছিল দেশের বড় একজন ডক্টর হব। কিন্তু বাবা মা বিয়ের জন্য খুব জোড়া জোড়ি করছিল। এবং আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে ঠিক করে। তাই আজ... [মেয়েটি কাদছে..]
-আরে আরে কান্না করবেন না প্লিজ। তাহলে বাসের লোকজন ছেলেধরা বলে আমাকে পিটাবে..
-- হেহে.. তাই নাকি? তাহলেই তো বেশ হয়!
-এইতো হাসছেন দেখছি। তো কোথায় যাবেন?
-- কিছুই জানি না...
-বুঝতে পেরেছি। চলেন আপনাকে আপনার ফ্যামিলিতে পৌছে দিই..
-- না না আমি আর কখনই সেখানে যাব না.. আর যদি বেশি জোড় করেন বাস থেকে নেমে যাব।
- তাহলে কোথায় উঠবেন? আপনার কথা শুনেতো মনে হচ্ছে আপনি চট্টগ্রামের "চ" ও চিনেন না।
-- হুম তা ঠিক। দেখি কোথায় উঠা যায়..
- আচ্ছা আপনার কোন প্রবলেম না হলে আমার সাথে যেতে পারেন। ইয়ে মানে বিপদের কোন কারন নাই। আমি মামার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছি।
-- হুম গেলাম কিন্তু আমার পরিচয় কি দিবেন?
- বলব আমার বউ। পালিয়ে বিয়ে করেছি
মেয়েটি তেমন কিছুই বলল না। শুধু একটু ক্ষোভ প্রকাশ করল। অবশ্য যাবে না ও কিন্তু বলে নাই।
-একটা কথা জিজ্ঞেস করব। ঠিক ঠিক উওর দিবেন তো?
-- জ্বি দিব। বলেন..
- ইয়ে মানে আপনার বিএফ নাই তো?
-- এই প্রশ্ন কেন?
- ইয়ে মানে ইয়ে এমনিতেই
-- আগেই বলেছিলাম পটানোর চেষ্টা করলে গণ পিটুনি খাওয়াব।
..মেয়েটি লাল শাড়ি পড়ে বড় ঘুমটা দিয়ে বসে আছে। আমি খাটের এক প্রান্তে গিয়ে বসলাম। আস্তে আস্তে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। যেই না মেয়েটির ঘুমটা খুলতে যাব।
--এই চাপ! দূরে যাও ফাজিল..
- কেন? কেন?
--বলছি না আমাকে পটাবা না। তারপরেও পটাইলা কেন? এখন গণ পিটুনি খাওয়াব?
- ছিঃ ছিঃ আমি আজ থেকে তো তোমার জামাই। জামাইকে কেউ পিটায় না আদর করে..?
-- হয়েছে হয়েছে। ঢং.. হুহ.. সিগারেটের প্যাকেট টা দাও..
-আজ আবার সিগারেট কেন?
-- অই তোমার মনে নাই বাড়ি থেকে পালানোর কারন ছিল বিয়ে। আর বিয়ের কারনে সিগারেট খেয়েছি। আজ আবার বিয়ে.. সুতরাং আজ সিগারেট খাব। পালাতাম কিন্তু বিয়ে তো করে ফেলছি.. তাই..
..মেয়েটি স্যরি বউটি সিগারেট টানছে আর আমি মন ভরে দেখেই যাচ্ছি






0 মন্তব্য:
Post a Comment