গ্রামের ছেলে শাওন। শহরে এসেছে লেখাপড়া করতে। আর্থিক অবস্থাও তেমন ভাল না। বাবা একজন কৃষক। তার ওপরই সব আশা ভরসা। ছেলে উচ্চশিক্ষিত হয়ে বাবা মায়ের দুঃখের কষ্টের দিন ঘুচাবে। মা বাবার আশা পূরনকরতে ভাল করে পড়ালেখা করে শাওন। প্রত্যেক পরীক্ষায় ফাস্ট হচ্ছে সে, আগের ফাস্ট মেয়েটিকে পিছে ফেলে।
পড়ালেখার দিকে যেমন ভালো চারিত্রিক দিকেও সে ভালো। টিচাররা সবাই ভালবাসে ওকে। কিন্তু সায়মা যে আগে ক্লাসের ফাস্ট ছিল তার সহ্য হতোনা শাওনে কে। সে নড়াতেও পারছেনা ওকে এক থেকে। তাই, দুষ্ট বুদ্ধি আঁটল সায়মা। সে শাওন কে চরিত্রের অপবাদ দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফন্দি করল। কিছুই বুঝতে দিলনা শাওনকে।
শাওনের সাথে বন্ধুর মতই আচরন করত সায়মা। একদিন ফন্দি মত শাওনকে কোচিং এ তাড়াতাড়ি আসতে বলে পড়া বুঝিয়ে নিবে বলে। কথামত গ্রামের সহজ সরল ছেলে শাওনও যায় কোচিং সেন্টারে। তখনও কেউ আসেনি। পড়া বুঝিয়ে নেওয়ার সময় হঠাৎ উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় সায়মা। শাওন কিছু বুঝে উঠার আগেই জোরে চিৎকার দেয় সায়মা। আশেপাশের লোকজন জড় হলে শাওনকে ইজ্জতহানীর অপবাদ দেয় ও। মিথ্যা অভিযোগে শাওনকে কলেজ থেকে বের করে দেয় কলেজ কতৃপক্ষ। সাথে ভেঙ্গে দেয় একটি পরিবারের স্বপ্ন। একবার শুনতেও চায়নি শাওনের কথাগুলো।
নারী অধিকারের দোহাই দিয়ে। শাওন এখন কূল হারা তরীর ন্যায়। না পারছে পরিবারে ফিরে যেতে না পারছে প্রাইভেট কোনো কলেজে পড়তে। প্রাইভেট কলেজে পড়ার মত অত টাকা কোথায় পাবে সে? আগে যা কয়েকটা টিউশনি ছিল তাও চলে গেছে এই ঘটনার পর। এভাবে কত শাওনের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় সায়মাদের রোষানলে পড়ে তার হিসেব নেই। কবে নারী অধিকারের দোহাই দিয়ে শাওনদের স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়া বন্ধ হবে?






0 মন্তব্য:
Post a Comment