নাসিম: বলো কেয়া।
কেয়া: কি করে চিনলে?
নাসিম: দীর্ঘ ৫ বছর এই ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম। না চেনার কি উপায় আছে।
কেয়া:তুমি তো কখনো চেষ্টা করলে না?
নাসিম: তোমাকে বিরক্ত করতে চাই নি।
কেয়া: আমি কি বিরক্ত হতাম!
নাসিম: তুমিই ভালজানো।
কেয়া: তুমি কি কিছুই বুঝ না, নাকি বুঝতেই চাওনা।
নাসিম: বাদ দেও তো, এসব কথা। এখন বলো কিসের জন্য ফোন দিলে।
কেয়া: কেন তোমাকে কি ডিস্টার্ব করলাম।(রাগ করে বললো কেয়া)
নাসিম: তোমার রাগ দেখতেছি এখনো কমে নি। কেমন আছো তুমি?
কেয়া: হুম ভালো আছি, তুমি কেমন আছো?
নাসিম: চলছে মোটামুটি, বেঁচে থাকার জন্য যতটা ভাল থাকার দরকার ততটা ভাল আছি।
কেয়া: সত্যি করে বললে তুমি কি আমায় আজও ভালবাসো।
নাসিম: ভালবাসি কিনা তা বলতে পারবো না, তবে তোমায় এক মূহুর্তের জন্য তোমায় ভুলতে পারি না।
কেয়া: তোমার মধ্যে কবি ভাব টা আজও গেল না, তা তুমি কি এখনো গল্প লেখো?
নাসিম: যাকে নিয়ে গল্প লিখতাম সে চলে গেছে, এখন আর গল্প লেখার মানুষ নেই।
কেয়া: নতুন কাউকে খুজে নিতে পারতে?
নাসিম: একটা মন কয় জনকে দিব বলো।
কেয়া: তাই বুঝি। তা এখন কি করছো।
নাসিম: এইতো তোমার সাথে কথা বলছি।
কেয়া: তুমি আগের মতোই রয়ে গেলে, বদলাও নি। তুমি কি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছো।
নাসিম: তুমি তো কোন অপরাধ করো নি, ক্ষমা চাইছো কেন।
কেয়া: তোমার ভালবাসা উপেক্ষা করে চলে যাওয়া আমার উচিত হয় নি। তুমি তো প্রতিশোধ নিতে পারতে।
নাসিম: প্রতিশোধ! ভালবাসা কোন প্রতিশোধের জায়গা না।
কেয়া: আমি কি করবো এখন।
নাসিম: মনে!
কেয়া:আমি যে তোমাকে ভালবাসি তুমি কি, একবারের জন্যও বুঝতে পারো না।
নাসিম: বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছো।
কেয়া: তুমি কি আমায় ফিরেয়ে দিয়েছো।
নাসিম: আমার যে আর কিছু করার নাই।
কেয়া: তুমি এত পাষান হতে পারো না নাসিম।
নাসিম: দেখ আগামী মাসের ১৫ তারিখ আমার বিয়ে, তোমাকে বিয়ের কার্ড ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবো না।
কেয়া: দেখ নাসিম এটা মজা করার সময় না। আমি কিন্তুু সিরিয়াস।
নাসিম: আমিও সিরিয়াস কেয়া। তুমি বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছো। আমি গত পাঁচ বছর তোমার অপেক্ষায় ছিলাম, ভাবছিলাম তুমি ফিরে আসবে কিন্তুু তুমি আসলে না।
কেয়া: আমি কি খুব বেশি ভুল করে ফেলেছি।
নাসিম: তুমি তো কোন ভুল করোনি, সব দোষ আমার কপালের।
কেয়া: আমি কি করবো, ভাবছিলাম দেশে ফিরে তোমায় নিয়ে ঘর বাধবো। ( ৫ বছর আগে পড়ালেখা করার জন্য লন্ডন যায় কেয়া, আর তখন থেকে দুজনে আলাদা, কারো সাথে যোগাযোগ ছিল না।)
নাসিম: কেয়া আমি না তোমাকে খুব ভালবাসতাম, তুমি কখনো আমাকে বুঝনি। আমি আশায় থাকতাম তুমি একদিন আমার কাছে ফিরে আসবে। আজ তুমি ফিরে এলেও আমি তোমাকে গ্রহন করতে পারতেছি না। তুমি সুখে থেকে ভাল থেকো। আর যতটা পারো আমাকে ভুলে যাও।
কেয়া: নাসিমের কথা শুনে কেয়া হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। তখন ফোনটা কেটে দেয়ে নাসিম।
নাসিম খুব কেয়াকে ভালবাসতো, এস,এস,সি পরীক্ষার সময় কেয়াকে প্রোপজ করে নাসিম। কিন্তুু তা গ্রহন করে নি কেয়া। তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেয়। তখন থেকে ডাইরি লেখা শুরু করলো নাসিম। সে তার প্রতি মূহুর্তের কথা লিপিবদ্ধ করা শুরু করলো ডাইরির পাতায়। কেয়া ও নাসিমকে খুব ভালবাস তো, কিন্তুু মুখ ফুটে কখনো বলতে পারেনি কেয়া। কেননা কথায় আছে মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। কেয়াকে এখন তার বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই কেয়া সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নাসিমকে ফোন দেয় এবং মনের সব কথা নাসিমকে জানায়। আর কতটাই তহভাগা নাসিম তার প্রানের প্রিয়া ফিরে এসেছে কিন্তুু তাকে গ্রহন করতে পারছে না। কারন একটাই নাসিম মরন ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যেু সাথে পাঞ্জা লরছে। ডাক্তার বলছে আর ১৫ দিনের মত বাঁচবে। তার ক্যান্সারের কথা ডাক্তার ১ম তার মাকে বলেছিল। নাসিমকে জানায় নি তার মা, একা একা তার চোখের পানি ঝরিয়েছে। কিন্তুু সে জানে না যে নাসিম জানলার পাশ দিয়ে ডাক্তারেরর সব কথা শুনেছে। নাসিম তার মাকে কখনো বুঝতে দেয় নি। আজ কেয়াকে নাসিম ফিরেয়ে দেয়,
কেননা নাসিম চায় নি তার অনিশ্চিত জীবনের সাথে কেয়াকে জড়াতে। তাই মিথ্যা বিয়ার কথা বলে কেয়াকে ফিরেয়ে দেয়। নাসিম জানলার পাশে দাড়িয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে আর দুচোখ দিয়ে অশ্রু গঙ্গা বয়ে চলে। আর এখন তার জীবন সঙ্গী ডাইরির পাতায় লিপিবদ্ধ করে আজকের ফোনালাপ!
দীর্য ১মাস পর.......................
পরীক্ষার রেজাল্ট দেয় কেয়ার, কেয়া ডাক্তারি পাশ করে। কেয়া চায় যে খুশির খবর টা নাসিমকে দিতে, কিন্তুু ফোন বন্ধ পায় নাসিমের।
তখন কেয়া সিন্ধান্ত নিল যে দেশে ফিরে যাবে এবং নাসিমের সাথে দেখা করবে।
দেশে ফিরে যায় এবং চলে যায় নাসিমের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে কেয়া অনুভব করলো কিসের জানো একটা শূন্যতা আছে। তখন এক মহিলা এসে বললো তোমার নাম কি কেয়া।
কেয়া: হ্যা! কিন্তুু আপনি চিনলেন কিভাবে।
তখন মহিলা বললো আমি নাসিমের মা। কেয়া তখন নাসিমের মাকে সালাম করলো এবং জানতে চাইলো আমাকে কিভাবে চিনলেন।
নাসিমের মা: নাসিম বলেছিল নীল শাড়ি পড়ে এবং ফুলের তোড়া নিয়ে একটি মেয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসবে, তার নাম কেয়া। কেয়া তখন আশ্চর্য হয়ে যায় কেননা তার প্রিয় রং ছিল নীল। আর ফুল নিয়ে আসবো নাসিম কি করে জানলো। তাহলে এর নাম কি প্রেম এর নাম কি ভালবাসা!
কেয়া: আন্টি নাসিম কোথায়?
নাসিমের মা: এসো আমার সাথে? নাসিমের মা একটা সমাধির সামনে নিয়ে আসলো কেয়াকে। এবং বললো আজ থেকে ১৫ দিন আগে নাসিম ক্যান্সার রোগে মারা যায়।
তখন কেয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো এবং নিস্তব হয়ে গেল কেয়া। দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরলো কেয়ার, কেয়া যেন নিজেকে সান্তনা দিতে পারতেছে না। নাসিমের মা কেয়াকে একাটা ডাইরি দেয়, যে ডাইরিতে লেখা ছিল নাসিমের সব কথা।
কেয়া এক এক করে ডাইরির প্রতিটা পাতা দেখতে থাকে আর কাঁদতে থাকে।
কেয়ার সাথে ১ম দেখার শুরু হতে সব কথা ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করে নাসিম। কোন কথাই বাদ রাখে নি নাসিম। কেয়া শেষের পাতায় দেখলো লেখা আছে।
আমার মৃত্যেুর পরে তুমি আসবে আমার বাড়িতে নীল শাড়ির সাথে, থাকবে হাতে ফুল। তোমায় এই সাজে দেখতে ইচ্ছে হয়েছে কিন্তুু তুমি তো আমাকে ভালবাসো নি আর আমাকে কখনো বুঝতেও চাওনি। আমার মৃত্যেুর পর আমার
ভালবাসা সার্থক হয়েছে। তুমি সেই সাজে আমার সাথে দেখা করতে এলে কিন্তুু আমাকে দেখতে পেলে না। আমি কিন্তুু তোমাকে ঠিকই দেখতে পাচ্ছি। জানি তুমি লেখাগুলি পড়বে আর কাঁদবে হয়তো চোখের পানিতে ভিজে যাবে ডাইরির পাতা। আমার ভালবাসার কোন শেষ নেই। আমি জানতাম তুমি আমাকে ভালবাসবে কিন্তুু ভাবেনি সেটা আমার মৃত্যেুর পরে। আমি সারা জীবন তোমার মনের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আর এটাই আমার অসামাপ্ত ভালবাসা।....
ভালবাসা সার্থক হয়েছে। তুমি সেই সাজে আমার সাথে দেখা করতে এলে কিন্তুু আমাকে দেখতে পেলে না। আমি কিন্তুু তোমাকে ঠিকই দেখতে পাচ্ছি। জানি তুমি লেখাগুলি পড়বে আর কাঁদবে হয়তো চোখের পানিতে ভিজে যাবে ডাইরির পাতা। আমার ভালবাসার কোন শেষ নেই। আমি জানতাম তুমি আমাকে ভালবাসবে কিন্তুু ভাবেনি সেটা আমার মৃত্যেুর পরে। আমি সারা জীবন তোমার মনের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আর এটাই আমার অসামাপ্ত ভালবাসা।....







0 মন্তব্য:
Post a Comment