-কিরে আকাশ এত সাঁজ গোছ,,কোথাও
যাবি নাকি?
-হ মামা,,যামু এই আর কি???
-কৈ যাবি,,অনেকটা কৌতূহল নিয়েই!!
-যাব আর কি,,বুঝস না,অবস্থা দেইখা??
-তদের কিছুই
বুঝি নারে আমি,,,খুইলা বল
সব,,
-আজকে সুমার সাথে ডেট অাছে,....খুব
কষ্টে রাজি করাইছিরে মামা।
প্যাচে আনতে খুব কষ্ট হইলো।
-ওহহ্,,ভাবছিলাম এইটাই,,শুধু ডেট
নাকি রুম
ডেটও।
-এ রকমই আর কি।মাইয়াটা খুব চালাক।
সহজে রাজি হয় না।আগের গুলার মত না।
খুব
কষ্ট হইছে।দাঁড়া ছবিটাটা দেখাই,কঠিন
একটা।
মোবাইলটা নিয়ে ছবি দেখায়
শুভকে ওর
বন্ধু
আকাশ।মোবাইলে যে মেয়েটার
ছবিটা দেখলো শুভ,দেখতে ভালোই
মেয়েটা,মনে হয় অনেক বড় ঘরের মেয়ে।
আকাশ বলল ওদের
সাথে কোচিং করে নাকি মেয়েটা।
একটু
আকটু কথা দিয়ে শুরু।
আস্তে আস্তে সম্পর্কটা গভীর হয়।
অনেক
দিন নাকি হলো ওদের সম্পর্কের তাই
ডেট
করতে চায় ওরা।
আকাশও মনে মনে অনেকটা খুশিই,অনেক
দিন হলো সম্পর্কের।ওর মতে ডেট
না করলে নাকি ভালবাসা গভীর হয়
না।
মনে মনে ভাবে মেঘ না চাইতেই জল।
নিজেরাই ঠিক করে নেয় কখন কোথায়
ডেট
করবে ওরা।
ওর এসব কথা শুনে যায় শুভ শ্রোতার মত।
আজকেই নাকি সুমার সাথে ওর
সম্পর্কটা শেষ।কথাটা শুনে আকাশের
মুখের
দিকে তাকালো শুভ।মানে??
ডেট শেষ তো সম্পর্ক শেষ।আজকের পর
ওর
সাথে কিছু দিন
ব্যস্ততা দেখাবো,এভোয়েড
করে চলবো,এক সময় আপনা আপনিই
ছেড়ে চলে যাবে।
আরেকটার সাথে সম্পর্ক নাকি প্রায়
ওর
ঝুলে আছে, আজকের পর সুমাকে বাদ
দিয়ে নতুনটাকে ধরবে আবার।ওর
নাকি একটাকে বেশি দিন
ভালো লাগে না।
অনেকটা ভ্রমরের মত।আর এসব
কথা শুনে শুনে শুভ ছেলেটারও
প্রেমের
ইচ্ছা জাগে।কিন্তু কি ভেবে যেন
আবার
ফিরে আসে।
অনেকবার আকাশকে শুভ বুঝিয়েছে।
লাভ হয়
নি।শুভ নাকি আন কালচার। আকাশ
ওল্টা বুঝায় ওকে, এ যুগে নাকি এমন
না হলে চলে না,দাম পাওয়া যায় না।
আর শুভ প্রতিটা ডেটের
কাহিনী শুনে আকাশের কাছ থেকে।
আর
এসব
শুনে মনে মনে শুধু ঘৃণা করে।
আকাশকে এখন
যেতে হবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে।ওর জন্য
অপেক্ষা করছে হয়তো বার বার কল
দিয়ে যাচ্ছে নাকি।
কথাটা বলেই ভাল একটা পারফিউম
লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ে আকাশ।গন্তব্য
হয়তো এদের কোন এক ফ্ল্যাট বা কোন
একটা পার্ক।আকাশের মনটা আজ খুশি।এই
ভেবে আবার খুশিতে ভরে উঠলো মনটা।
এতক্ষণ যারা কথা বলছিল।
এরা একে আপরের
ঘনিষ্ট বন্ধ।একজন শুভ আর ওর বন্ধু
আকাশ।
কিন্তু বন্ধু হলে কি হবে,দুজনেই
ভিন্ন
টাইপের।শুভ শান্ত প্রকৃতির সহজ সরল
একটা ছেলে,কিছুই বুঝেনা।আর আকাশ
অনেকটাই রোমিও চরিত্রের ছেলে।
একটা ছাড়ে আরেকটা ধরে।মধু সংগ্রহ
করাই
ওর একমাত্র কাজ।আর শুভ শুধু ওর কাছ
থেকে এসবের কাহিনী শুনে।আর
নিজে মনে মনে ঘৃণা করে আর ভাবে সব
কিছুই এক সহজে হয় কিভাবে।
আকাশ গিয়ে দেখলো মোড়ের
সামনে দাড়িয়ে আছে সুমা।রিক্সায়
তুলে নিলো ওকে।সব তো ঠিক করা তাই
জায়গা মত যেতে শুরু করলো ওরা।ওদের
গন্তব্য কোন এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে।
হয়তো ফ্ল্যাটে গিয়ে মেয়েটাকে দিতে হবে তার
ভালবাসার পরীক্ষাটা।দুজন
মেতে উঠবে ক্ষণিকের পৈশাশিক
খেলায়।
ক্ষণিকের এই
আনন্দে হয়তো ঘটে যেতে পারে তাদের
জীবনে বড় কিছু।
ছেলেটার তো সব পরিকল্পনা মতোই।
আজকের
ডেটিংটা ভালো ভাবে হলেই
পরে আর মেয়েটা সাথে যোগাযোগ
রাখবে না।কিন্তু মেয়েটার কি হবে।ও
যে বিশ্বাস করে সব দিয়েছে।
কি আর হবে হয়তে এক সময় সমাজের
কাছে মেয়েটা কলংকিত হয়ে যাবে।
বাধ্য
হয়ে হারিয়ে যেতে হবে পৃথিবীর মাঝ
থেকে।নয়তো এটাকেই
আগলে বেচেঁ থাকতে হবে তাকে।
কিন্তু
ছেলেটা,সে হয়তো তার মতই আছে।
খুঁজে নিয়েছে তার মত নতুন একজনকে।
কেননা তার
মাঝে ভালবাসাটা জিনিসটা কখনই
ছিলো না,ছিলো অন্য কিছু!!






0 মন্তব্য:
Post a Comment