সাহারা খাতুন গ্রামের অতি দরিদ্র ও অসহায় একজন মহিলা উনার এই দুনিয়াতে আপন বলতে একজনই আছে আর সে হল উনার ছেলে রাতুল রাতুলের যখন ছয় বছর বয়স তখন তার বাবা মারা যায়।এদিকে এক তো দরিদ্র পরিবার অন্যদিকে রাতুলের বাবা মারা যাওয়ায় ভিষন সমস্যায় পড়েন রাতুলের মা সাহারা খাতুন অনেক কষ্টে দিন কাটছিল তার লোকের বাড়ী বাড়ী কাজ করে নিজের ছেলেকে নিয়ে কোন রকম জীবনযাপন করছেন সেই সাথে নিজের একমাত্র ছেলেকে পড়াশুনাও করাচ্ছেন রাতুলও লেখাপড়ায় অনেক ভাল ছিল এভাবেই কেটে গেলে কয়েক বছর এবং রাতুলও বড় হয়ে গেল এদিকে রাতুল S S C পাশ করল এবং H S C তেও ভাল রেজাল্ট করল
তারপর রাতুল মায়ের কাছে বায়না করল সে আরও লেখাপড়া করবে এবং ঢাকায় এসে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে কিন্তু তাতে তো অনেক টাকার দরকার এত টাকা কোথায় পাবে রাতুলের মা। অবশেষে নিজের স্বামীর দেওয়া স্মৃতিবিজড়িত কিছু গয়না ছিল তা বিক্রি করে এবং লোকের কাছ থেকে ধার দেনা করে ছেলেকে ঢাকায় পাঠাল মহিয়সী এই মা এদিকে রাতুল ঢাকায় এসে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হল এবং পড়ালেখা ভালই চলছিল রাতুলের। এভাবে ছয়-সাত মাস যাওয়ার পরে রাতুল একধনী ঘরের মেয়ের প্রেমে পরে যায়। এমনকি প্রেমে এতটাই পাগল হয় যে তার
অসহায় মায়ের কথাও ভুলে যায় অনেকদিন মায়ের সাথে যোগাযোগ নেই রাতুলের এদিকে ছেলের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে
পরে রাতুলের মা। হঠাত্ একদিন রাতুলের প্রেমিকা রাতুলের কাছে জন্মদিনের গিফ্ট হিসেবে একটা স্বর্নের আংটি চাইল কিন্তু রাতুল এত টাকা পাবে কোথায়? তাই টাকার জন্য ছুটে গেল মায়ের কাছে এবং মাকে বলল পরীক্ষার ফি বাদত ১০হাজার টাকা লাগবে এবং টাকাটা আজদিনের মধ্যেই লাগবে কিন্তু ১দিনের মধ্যে এত টাকা কোথায় পাবে সাহারা খাতুন অবেশেষে নিজের স্বামির ভিটা টুকুও বিক্রি করে দিলেন তারপরও ৫০০টাকার ঘাটতি থেকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও ৫০০টাকা যোগাড় করতে না পেরে অবশেষে ছেলের সুখের কথা ভেবে রাতের অন্ধকারে
এক ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে মাত্র ৫০০টাকার বিনিময় নিজের এক ব্যাগ রক্ত বিক্রি করে টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরল রাতুলের মা সাহারা খাতুন। পরদিন সকালে এই টাকা নিয়ে রাতুল ঢাকায় ফিরল এবং তার গার্লফ্রেন্ডকে স্বর্নের আংটি কিনে
দিল নিজের মায়ের রক্ত বিক্রির টাকা দিয়ে।
এই হল অসহায় সাহারা খাতুনের দূঃখের জীবন কাহিনী। জানিনা ভবিষত্ এ এই রাতুলের জন্য আরও কত কি করতে হবে এই দূঃখিনী মা সাহারা খাতুনের।






0 মন্তব্য:
Post a Comment