ধনীর দুলালীদের রাগের শিকার হয়
বাড়িতে থাকা দারোয়ান , কাজের
বুয়া অথবা ড্রাইভার । আর পরিনতি স্বরূপ
কাঁচের জিনিস পত্র ভাঙ্গা । ঠিক
তেমনি স্বভাবের মেয়ে সম্পূর্ণা । গত
কয়েকঘন্টা কাজের বুয়া তাঁর অকথ্য
ভাষার
গালী সহ্য করছে আর ভাঙ্গা কাঁচের
টুকরা গুলা খুব
সাবধানে কুড়িয়ে নিচ্ছে । ও
হো দুঃখিত তাঁর রাগের
কারণটা তো বলাই
হয়নি । বাপ্পির সাথে ঝগড়া হয়েছে ।
বাপ্পি কাজে খুব ব্যস্ত তাই
সম্পূর্ণাকে টাইম দিতে পারছেনা । এই
নিয়ে খুব ঝগড়া । এটাই তাঁর রাগের
কারণ ।
অন্য মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড তাদের
গার্লফ্রেন্ডের কতো কেয়ার করে অথচ
বাপ্পি হয়েছে তার উল্টো। সারাদিন
আছে তার অফিস আর কাজ নিয়ে ।
সম্পূর্ণা ঠিক করেছে আগামী সাত
বাপ্পির
সাথে কথা বলবে না ।
সত্যিই রাগের মূহুর্তে নিজেকে অনেক
অসহায় মনে হয় ।
এটা কি বাপ্পি বুঝেনা ? খুব
কান্না পাচ্ছে । ফোনটা হাতে নিল ।
অনেকবার কল দিচ্চে তমালকে ।
ব্যাচমেট
ছিল তমাল । এখন
সে অজানা কারণে পড়তে আসেনা ।
ফোন
দিয়েই যাচ্ছে । তমাল ও কি বাপ্পির মত
ততটাই ব্যস্ত । পৃথীবিতে সবাই ব্যস্ত শুধু
সম্পূর্ণা ছাড়া ।
এমনটা ভাবছে আছে ফোন
দিয়ে যাচ্ছে । সম্পূর্ণা যখন কোন সমস্যায়
পড়ে তখনই সে তমালকে ফোন করে ।
একমাত্র তমালই পারে তাকে ভাল
একটা সমাধান দিতে । তমালের
জগত্টা এখন
আর আগের মত নেই । বের হয় না ,
ক্লাসে যায়না ,
মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে খোলা আকাশটা দেখে ।
বিশাল আকাশের খেলা দেখে তার মন
কিছু
ভাল হয় । তমাল দেখছে সম্পূর্ণার ফোন
আসছে বার বার । এবার ফোনটা রিসিভ
করা উচিত । আবেগটুকু
নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে ফোনটা ধরে বললো ,
- হ্যালো ।
- কোথায় তুই ? ফোন ধরছিস না কেন ?
- ছাদে ছিলাম , তাই । কেন ফোন
দিলি ?
- একটা প্রবলেম হইছে ।
- কি বল ।
- ভার্সিটি থেকে আসার
পথে একটা ছেলে আমাকে চোখ
মেরেছে ।
আমার জেদ লাগছে । কি করবো বল ।
- তুই চোখ মারতে পারিস ?
- হ্যাঁ পারি ।
- তাহলে কাল ঐ ছেলেকে গিয়ে তুই
চোখ
মারবি । ছেলেটার আত্নসম্মান
থাকলে সে তোকে বিরক্ত করবে না ।
- আগে তো ভাবিনি কথাটা । থেঙ্কু
দোস্ত ।
রাখি ।
- হুম
তমালের
আকাশটা জুড়ে যে ঘুড়িটা উড়ছে তাঁর
নাটাই সম্পূর্ণার হাতে । আর সম্পূর্ণার
ঘুড়ির নাটাই বাপ্পির হাতে । এসব
ভাবতে ভাবতে আকাশ
পানে চেয়ে আছে । আর
একটা মুচকি হাসি তমালের । ভাবছে এই
মেয়ের পাগলামী হয়তো শেষ
হবেনা আর ।
রাত প্রায় দুটা বাজে এখনো তমাল
আকাশ
দেখছে । ঠিক এই সময়ে আবার সেই
মেয়ের
ফোন । ফোন দেওয়া নিয়ে এই মেয়ের
কোন
অলসতা নেই ।
- হ্যালো
- কিরে ঘুমাস নি ?
- না । কেন ফোন দিলি ?
- কাল আমার সাথে তুই যাবি ।
তাহলে ছেলেটাকে চোখ
মারতে সাহস পাব ।
- আমি যাব না ।
- তুই না গেলে ভয় পাব । একা একা চোখ
মারতে পারব না । তুই যাবি এটাই
ফাইনাল ।
রাখলাম ।
অন্যায় আবদার রাখতে গিয়েই
একতরফা ভালবাসার
বন্ধনে জড়িয়ে গেল
তমাল । জানে একতরফা ভালবাসার
ফলাফল
শূন্য তাই বলে কি মনকে আটকে রাখবে ?
যেতে তো হবেই তমালকে । পরদিন
দুজনে গেল ভার্সিটিতে ,
প্ল্যানমাফিক
কাজটা ও হল । হাসির কোন কমতি নেই
সম্পূর্ণার মুখে । আর সেই হাসির
ফয়দা লুটেই
তমাল ও খুশি । কয়েকদিন পর রাত প্রায়
সাড়ে ৩ টা । সম্পূর্ণার ফোন কল । রিসিভ
করলো ।
- হ্যালো ।
- একটা প্রবলেম হইছেরে দোস্ত ।
- কি হইছে বল ।
- একটা ছেলে ক্যাম্পাসে আমার ফোন
নাম্বার চাইছে । কি করবো বল ?
- দিয়ে দে নাম্বার ।
- ফাজলামি রাখ সমাধান দে ।
- তুই কাল যাবি । ছেলেটাকে বলবি ,
"আপনার
বাবার নাম্বারটা দেন উনাকে ফোন
দিয়ে বলবো আঙ্কেল আপনার
ছেলেকে ফোনটা দেন । তিনি আমার
সাথে কথা বলতে চাইছে । আমার ফোন
নাম্বার চাইছে । আপনার
বাবাকে বলবো তখন কথা বলতে পারবেন
"
- কথাটা শুনে সম্পূর্ণার
হাসি থামছেনা ।
যেমন কথা তেমন কাজ ।
পার্কে পাশাপাশি বসে ভাবছে তমাল
শুধু এটাই
না বলা কথাগুলা কি সম্পূর্ণা কোন
দিনও
বুঝতে পারবেনা ? সম্পূর্ণা হেসেই
যাচ্ছে ।
আর সেই হাসিটা তমালের সুখের
শ্রেষ্ঠতম
অনুভুতি । মাঝে মাঝেই হারিয়ে যায়
একপার্শ্বিয় ভালবাসায় ।
- দোস্ত যাইরে । কাল বাপ্পিকে অনেক
বকেছি । কিন্তু আমিতো ওকেই
ভালবাসি ।
ওর সাথে দেখা করতে হবে ।
- আচ্ছা যা । ভাল থাকিস ।
কিছু কথা :: ভালবাসায় কখনো তৃতীয়
চক্ষুরা সুখের মুখ দেখেনা । আর দ্বিতীয়
চক্ষুরা সুখ আর দুক্ষের
মাঝামাঝি থাকে ।
প্রথম চক্ষুরা অনেক সৌভাগ্যবান হয় ।
একটু ভেবে দেখুন কতটা সত্যি কথা এটা ।
কার ভালবাসাকে অবহেলা করতে নেই
।
অবহেলা গাছের পাতাও ঝরে যায় ।
মানুষ
তো একটা প্রানী ।
সে কিভাবে মেনে নিবে ?
আমি মোঃ সব্বুর আজাদ বাপ্পি। সাধারণত বাংলা ভাষিদের কাছে কিছু গল্প পৌছে দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৫/০৩/২০১৫ সালে ব্লগটির শুভয়াত্রা শুরু হয়। মাঝপথে এসে আমার নিজশ্ব কিছু সমষ্যার কারনে ব্লগটির কার্জক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সৄষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার সকল সমষ্যার অবশান ঘটে এবং গত ২৮/০৬/২০১৭ হতে ব্লগ কার্যক্রম আবার শুরু করি। আশাকরি সকলে পাশে থাকবেন।






0 মন্তব্য:
Post a Comment