বালিশের নিচে ফোনটা ভাইব্রেট করছে।সিম্পনি ফোন কোম্পানীগুলোর এই একটা দোষ, ভাইব্রেট খুব কড়া করে। নীরবের ঘুম ভেঙ্গে মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠল।ফোন গুলো মাঝে খুব বড় বড় কাজে বিরক্ত করে।ছেলেদের কাছে ঘুম এর চেয়ে বড় আর কোনো কাজ নেই। নীরবের কাছেও তাই।
মিমি কল দিসে…
-হ্যালো, মিমু।
-নবাব আপনার ঘুম হয় নাই? কয়টা বাজে?
-৮ টা।
-প্রাইভেট কয়টায়?
-৮ টায়।
-হারামি, প্রাইভেট এ আসবি না?
-ওপস। সরি সরি, আসতেসি রে।
-------------
মিমি আর নীরব খুব ভালো বন্ধু।স্কুল লাইফে নীরবের কোনো মেয়ে বন্ধু ছিল না।তাই নতুন কলেজে গিয়ে যখন নীরব প্রথম প্রথম লজ্জায় মাথা নিচু করে নিরবে ক্লাসে বসে ক্লাস করতো। হঠাৎ মিমি প্রথম বলেছিল,"তুমি নতুন জামাই এর মত লজ্জায় নিয়ে বসে থাক কেন? সবার সাথে কথা বলবা।" নীরব মাথা নাড়িয়ে সাড়া দিয়েছিল। এভাবেই ওরা তুমি থেকে তুই হয়ে যায়। খুব ভালো বন্ধুত্ব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।মিমি খুব ভালো একটা মেয়ে। ও হ্যাঁ, মিমি একটা ছেলেকে ভালোবাসে,নাম ঈশান।
---------
নীরব প্রাইভেট আসল।কিন্তু ভুলে ওর চশমাটা আনতে মনে নেই।এটা আর কেউ লক্ষ করুক, বা না করুক মিমি ঠিকই লক্ষ করেছে।
-কিরে কানাবাবা, তোর চশমা কই?
-তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আনতে ভুলে গেসি।
-গর্দভ, এখন স্যারের নোটগুলো কেমনে তুলবি ?
-পরে তুলমু নে।
-খাতাটা দে আমাকে, আমি লেখে দেই তোকে।
-মিমু, আমার কি থেংকু দেওয়া দরকার?
-না থাক। তোর কষ্ট করে আর বলতে হবে না।
-হ্যালো, মিমু।
-নবাব আপনার ঘুম হয় নাই? কয়টা বাজে?
-৮ টা।
-প্রাইভেট কয়টায়?
-৮ টায়।
-হারামি, প্রাইভেট এ আসবি না?
-ওপস। সরি সরি, আসতেসি রে।
-------------
মিমি আর নীরব খুব ভালো বন্ধু।স্কুল লাইফে নীরবের কোনো মেয়ে বন্ধু ছিল না।তাই নতুন কলেজে গিয়ে যখন নীরব প্রথম প্রথম লজ্জায় মাথা নিচু করে নিরবে ক্লাসে বসে ক্লাস করতো। হঠাৎ মিমি প্রথম বলেছিল,"তুমি নতুন জামাই এর মত লজ্জায় নিয়ে বসে থাক কেন? সবার সাথে কথা বলবা।" নীরব মাথা নাড়িয়ে সাড়া দিয়েছিল। এভাবেই ওরা তুমি থেকে তুই হয়ে যায়। খুব ভালো বন্ধুত্ব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।মিমি খুব ভালো একটা মেয়ে। ও হ্যাঁ, মিমি একটা ছেলেকে ভালোবাসে,নাম ঈশান।
---------
নীরব প্রাইভেট আসল।কিন্তু ভুলে ওর চশমাটা আনতে মনে নেই।এটা আর কেউ লক্ষ করুক, বা না করুক মিমি ঠিকই লক্ষ করেছে।
-কিরে কানাবাবা, তোর চশমা কই?
-তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আনতে ভুলে গেসি।
-গর্দভ, এখন স্যারের নোটগুলো কেমনে তুলবি ?
-পরে তুলমু নে।
-খাতাটা দে আমাকে, আমি লেখে দেই তোকে।
-মিমু, আমার কি থেংকু দেওয়া দরকার?
-না থাক। তোর কষ্ট করে আর বলতে হবে না।
এভাবেই কাটছিল ওদের দিনগুলো। মিমি ঈশানের কথা বলতো নীরবকে। নীরবও সব শেয়ার করতো।নীরব নিজেকে খুব ভাগ্যবানই মনে করতো।হয়ত এরকম বন্ধু আর কখনো পাবে না। কিন্তু কদিন ধরে মিমি ফোন ধরছে না, ক্লাসেও ঠিকমত কথা বলে না।মিমি নিজেকে কেমন জানি গুটিয়ে নিয়েছে। বিকেলে নীরব মিমিদের বাসায় গেলো।মিমির মা কে গিয়ে বললো,
-আন্টি, মিমি কই?
-ছাদে একা একা বসে আছে। ওর কি হইসে তুমি জানো বাবা?
-না তো আন্টি।
-মেয়েটার কি হল বুঝতেসি না।ঠিকমত খায় না,একা একা বসে থাকে।
-ওকে, আন্টি আমি দেখছি।
------
ছাদে মিমি আর নীরব দাড়িয়ে আছে।
-মিমু তোর কি হইসে?আমার সাথে ঠিকমত কথা বলিস না, ফোন ধরিস না?
-কিছু হয় নাই।
-প্লিজ বল।
-ঈশান আমাকে ঠকিয়েছে।ও অন্য মেয়েকে পছন্দ করে। আমার মত অনেক মেয়ের সাথে সে প্রতারনা করেছে।ও একটা প্রতারক।
মিমি যখন এই কথাগুলা বলছিল, তখন ওর চোখে অবাধ্য নোনাজল টলমল করছিল, এক ফোটা,দুই ফোটা চোখের কোণ থেকে পড়ছে।ওর চোখে জল দেখে নীরব নিঃস্তব্দ হয়ে গেল।কিছুই বলার সাহস পাচ্ছিল না।
কিছক্ষন নীরবতার পর, নীরব বললো,
-মিমু, তোর হাতটা একটু দিবি?
-কেন?
-দেনা একটু..…
মিমি হাত বাড়িয়ে দিল।নীরব জটপট কলমটা বের করে ওর হাতে লিখে ফেলল,"তোর দুঃখগুলো দিবি আমায়, কিনব আমি সুখের দামে" মিমি ওর ভেজা চোখ নিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো..…'গর্দভ' এভাবেই একটু সুখে রাখার জন্য নীরব মিমিকে ভালবেসে ফেলে, আর মিমিও একটু সুখের খোজে নীরবের সাথে নতুন সপ্ন বাঁধতে শুরু করে। মানুষের জীবনে সত্যি এমন একজন খুব প্রয়োজন।যে আপনার খেয়াল রাখবে, আপনার সাথে রাগ করবে, আপনাকে শাসন করবে।সেটা যে শুধু প্রেমিকা হবে তা নয়, সেটা আপনার বন্ধু হতে পারে,হতে পারে আপনার পাশেরজন। আর ভালবাসুন তাকেই যে আপনার চোখের জলের মূল্য দিতে জানে..…।






0 মন্তব্য:
Post a Comment