আজ আমার প্রানপ্রিয় ছোটবোন
সেজুতির
বিয়ে।চারপাশের কোলাহলপূর্ন
পরিবেশ
এড়িয়ে কিছুটা নিস্তব্ধ
একটা ঘরে এসে বিবর্ন
অতীতগুলো মনে করার চেষ্টা করছি।
হঠাতই
ছোটবোনটা ঘরে ডুকে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু
করল ঠিক সেদিনকার মত।বিবর্ন
অতীতগুলো হুড়মুড়
করে বেরিয়ে আসতে লাগল....
.....
তখন সবে ইন্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ
হইছে।বিশ্ববিদ্য
ালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার দেবার
জন্য
কোচিং সেন্টারগুলোতে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে রাতদিন।
হঠাত একদিন কোচিংয়ে যাবার
আগে বাবা কল দেন....
ছোটবোনটার নাকি বিশাল জ্বর।
নিজ জীবনের চেয়েও দামী ছোট
বোনটার
জ্বরের কথা শুনে একটা মুহূর্তও
নিজেকে স্থির থাকতে পারলাম না।
তখনই
হোস্টেল থেকে বাড়ির
উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
.............
ছোটবোনটা তখন ক্লাস 3 তে পড়ে।ওর
জন্মের সময়ই আমার মা মারা যান।আপন
বলতে শুধু আমি আর বাবা।
আমি থাকি হোস্টেলে আর
বাবা সারাদিন
দোকানেই থাকে।তাই ওর
সাথে থাকার মত
কেউ নেই।আমি বাড়ি আসলেই হাজার
কথার
ভান্ডারে মাথা খারাপ করে দেয়।তবুও
অনেক
ভালবাসি ওকে।নিজের জীবনেও
চেয়েও
বেশি।
..........
বাড়ি গিয়েই দেখি ও ঘুমিয়ে আছে।
ডাকলাম না।
চুপটি করে ওর পাশেই বসে রইলাম।
গায়ে জ্বর ১০৪'F।কিছুক্ষন পর ঘুম
থেকে উঠেই আমাকে দেখে একটু হাসল।
আশ্চর্য হলাম এত জ্বরের মধ্যেও কেউ
কখনো হাসে?বিছানা থেকে উঠেই
একটা আবদার করে বসল....
__ভাইয়া ক্যাডবেরি এনেছিস আমার
জন্যে?
__ইসসস ভুলে গেছি।
__যা তোর সাথে আরি...
__সত্যিই
ভুলে গেছি..আচ্ছা বিকালে এনে দিব
ঠিকাছে?
__আচ্ছা...ঠিকাছে
__বল আর কি কি লাগবে?
__চকলেট,ক্যাডবেরি আর....
__আর কি?একটা ডাক্তার বর?
__যাহহহ...আমি তো বিয়েই করব না।
আচ্ছা ভাইয়া আমি যখন বড় হব তখন
আমাকে একবার
প্লেনে চড়িয়ে ঘুরাবি?
__আমি না ...তোর জন্যে যে বর এনে দিব
সে তোকে ঘুরাবে।তোর
জন্যে একটা লালটুকটুকে পাইলট বর
খুঁজে নিয়ে আসব যে।
সেদিন হয়ত অনেকটা মজা করেই
কথাটা বলেছিলাম।কারন
আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
বোনকে নিয়ে প্লেনে ঘুরার
অথবা বোনের
জন্যে পাইলট বর খুঁজে আনার কোন
সামথ্যই আমার ছিলনা।
তার কিছুদিন পর আমার আর ছোট
বোনটিকে নিষ্ঠুর
পৃথিবীতে একা করে দিয়ে বাবাও
চলে যান।
বাবা চলে যাবার আর্গ
মুহূর্তে ছোটবোনের
প্রতি তার সমস্ত দায়িত্ব কর্তব্য আমার
হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন।
সেদিন ছোট
বোনটিকে জড়িয়ে ধরে অনেক
কেঁদেছিলাম যেমনটা আজ কাঁদছি।
বাবা মারা যাবার পর
দোকানে দোকানে কাজ
করতাম।নিজে না খেয়ে থাকলেও
বোনকে কখনো অভুক্ত রাখিনি।বোনের
সব চাহিদায় পূরন
করতে চেষ্টা করে গেছি।
তখন ভেবেছিলাম বোনের
প্লেনে চড়ানোর
ইচ্ছাটা আর হয়তো পূরন করতে পারব না।
তবুও একরাশ আশা মন থেকে কখনো বের
করে দিতে পারি নি।
প্রতিদিন
বোনটাকে স্কুলে পৌছে দিয়ে দোকানে কাজ
করতে যেতাম...তারপর কলেজ
যেতাম,কলেজের
শেষে দোকানে কাজ
করে রাতে বাড়ি ফিরতাম।
ততক্ষনে বোনটা ঘুমিয়ে পড়ত।
একটু বড় হওয়ার পর ওউ
বুঝতে পেরে গেছিল
ওর আকাশ সমান চাহিদা আর কখনই পূরন
হবে না।তাই পরবর্তীতে ওর অন্য কোন
চাহিদার কথাও আমার কাছে বলত না।
চাপা কান্নায় নিজের বুক
ভাসিয়ে ফেলত।
আমিও দূর থেকে ওর সেই
কষ্টটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।
********
এখনো কেঁদেই চলছে বোনটা।আমিও
কাঁদছি।অনেক বছর পর দুই ভাইবোন
একসাথে কাঁদছি।
দূর থেকে হেলিকাপ্টারের আওয়াজ
শুনতে পেলাম।
বর চলে এসেছে।
পাইলট বর।
কানাডা এয়ারলাইনসের একজন
উচ্চমানের
পাইলট সে।নাম ইকবাল হোসাইন।
কেনজানি আজ জোর গলায়
বলতে ইচ্ছে করছে "পেরেছি আমি,হ্যা পেরেছি,বোনের
ইচ্ছা পূরন করতে পেরেছি"
বোনটা আমার কিছুদিন আগে লন্ডন
থেকে পিএইচডি করে ফিরল।
আজ আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।ওর
পাইলট বর
আকাশ পাড়ি দিয়ে নিয়ে যাবে ওকে।
একটু আগেই বিয়ে হয়ে গেল ওর।
শেষবারের
মত ও আর ওর বর আমার সাথে আলিঙ্গন
করে হেলিকাপ্টারে গিয়ে বসল।
ঐযে দূর
আকাশে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারেই
বসে রয়েছে আমার বোন আর তার বর।
মেঘাময় নীল আকাশ
পাড়ি দিয়ে হেলিকপ্টারে উড়ে যাচ্ছে ওরা।
আর অশ্রুভেজা ঝাপসা দুচোখে ওটার
দিকে চেয়ে আছেন ইঞ্জিনিয়ার
সাকিব
সাহেব....
আমি মোঃ সব্বুর আজাদ বাপ্পি। সাধারণত বাংলা ভাষিদের কাছে কিছু গল্প পৌছে দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৫/০৩/২০১৫ সালে ব্লগটির শুভয়াত্রা শুরু হয়। মাঝপথে এসে আমার নিজশ্ব কিছু সমষ্যার কারনে ব্লগটির কার্জক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সৄষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার সকল সমষ্যার অবশান ঘটে এবং গত ২৮/০৬/২০১৭ হতে ব্লগ কার্যক্রম আবার শুরু করি। আশাকরি সকলে পাশে থাকবেন।






0 মন্তব্য:
Post a Comment